Thursday, February 27, 2020
Tuesday, March 20, 2018
কিয়ামতের আলামত সমূহ।

কিয়ামত আরবি শব্দ। অর্থ মহাপ্রলয়, পুনরুত্থান। ইয়াওমুল কিয়ামা, অর্থ কিয়ামতের দিবস। কিয়ামত দিবসের আরো নাম আছে। যেমন: ইয়াওমুল জাজা বা প্রতিদান দিবস, ইয়াওমুল হিসাব বা হিসাবের দিবস, ইয়াওমুল কাজা বা বিচার দিবস, ইয়াওমুদ-দিন বা শেষ বিচারের দিন, ইয়াওমুল হাশর বা সমাবেশের দিন, ইয়াওমুল জাময়ে বা একত্রিত করার দিন, ইয়াওমুল বায়াছ বা পুনরুত্থান দিবস ইত্যাদি।
কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে?
হজরত জিব্রাঈল (আ.) একদা ছদ্মবেশে মহানবী (সা.)-এর কাছে হাজির হয়ে আরজ করেন, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? মহানবী (সা.) বলেন, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি থেকে জিজ্ঞাসাকারী অধিক জ্ঞাত নয়। অর্থাৎ কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।
আল্লাহ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো ফল আবরণমুক্ত হয় না এবং কোনো নারী সন্তান প্রসব ও গর্ভধারণ করে না। (সুরা : হা-মিম-সাজদা : ৪৭)
অপর আয়াতে বলা হয়েছে, তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন হবে? আপনি বলে দিন, এর খবর তো আপনার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তিনি তা পরিষ্কারভাবে দেখাবেন (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮৭)
মহানবী (সা.) বলেন, গুপ্ত জ্ঞানের বিষয় পাঁচটি:
১. কিয়ামত। তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।
২. আগামী দিন কী ঘটবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।
৩. কখন বৃষ্টি হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।
৪. কার কোথায় মৃত্যু হবে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না।
৫. কখন কিয়ামত হবে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। (সহিহ বুখারি)।
কিয়ামতের আলামত:
কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে কিছু নিদর্শন দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, তারা কি শুধু এই অপেক্ষায় রয়েছে যে কিয়ামত তাদের কাছে হঠাৎ এসে পড়ুক। বস্তুত কিয়ামতের লক্ষণগুলো তো এসেই পড়েছে। সুতরাং এসে পড়লে তারা কিভাবে উপদেশ গ্রহণ করবে? (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৮)
হজরত জিব্রাঈল (আ.) মহানবী (সা.) থেকে কিয়ামতের কিছু আলামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিয়ামতের একটি আলামত হলো, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, অর্থাৎ ছোটলোকের ঘরে বড়লোক জন্মগ্রহণ করবে।
আরেকটি আলামত হলো, নগ্ন পাবিশিষ্ট ও বস্ত্রহীন মেষচালক বিশাল বিশাল প্রাসাদ তৈরি করবে এবং এ কাজে তারা পরস্পর গর্ব করবে। অর্থাৎ একসময় যারা গরিব ছিল, পরবর্তী সময়ে তারা ধনী হয়ে অহংকারী হবে। (মিশকাত)
কিয়ামতের আগের সমাজব্যবস্থা:
১. সরকারি মালকে নিজের মাল মনে করা হবে।
২. আমানতের মালকে নিজের মালের মতো ব্যবহার করা হবে।
৩. জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে।
৪. ইসলামী আকিদাবর্জিত বিদ্যা শিক্ষা করা হবে।
৫. পুরুষ নারীর অনুগত হবে।
৬. মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হবে।
৭. বন্ধুদের আপন মনে করা হবে।
৮. পিতাকে পর ভাববে।
৯. মসজিদে শোরগোল করবে।
১০. পাপী লোক গোত্রের নেতা হবে।
১১. অসৎ ও নিকৃষ্ট লোকেরা জাতির চালক হবে।
১২. ক্ষতির ভয়ে কোনো লোককে সম্মান করা হবে।
১৩. গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন হবে।
১৪. মদপানের আধিক্য ঘটবে।
১৫. এই উম্মতের পরবর্তী লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের বদনাম করবে। (তিরমিজি)
কিয়ামতের নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে: দ্বীনি ইলমের ঘাটতি, নগ্নতা ও উলঙ্গপনা, ফিতনা-ফাসাদের বিস্তার, অশ্লীলতার সয়লাব, হত্যাকাণ্ড, ভূমিকম্পের আধিক্য। এমনকি হত্যাকারী বলতে পারবে না কেন সে খুন করছে। মানুষ অট্টালিকা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। মানুষ জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে মৃত্যুকে বেশি পছন্দ করবে। ধনসম্পদ এত বেড়ে যাবে যে ধনী সদকা করার মতো কাউকে পাবে না। দুটি বৃহৎ দল একই দাবিতে ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কিয়ামতের আগে ৩০ জন মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার হবে। মুসলমানরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনুকরণ ও অনুসরণ করবে। মানুষ জালিমকে জালিম বলবে না, খারাপ কাজ থেকে কেউ কাউকে বারণ করবে না। নারীদের আধিক্য হবে, ৫০ জন নারীর দেখাশোনার ভার একজন পুরুষের ওপর অর্পিত হবে। জিনা, ব্যভিচার ও মদের ছড়াছড়ি হবে। ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যুদ্ধ হবে এবং যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হবে। এমনকি জড়পদার্থ পাথরও তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসে বলবে, হে মুসলমান! দেখো আমার পেছনে এক ইহুদি লুকিয়ে আছে, তাকে হত্যা করো। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ:
দাজ্জালের আবির্ভাব : কিয়ামতের আগে মানুষকে গোমরাহ করার জন্য পূর্ব দিক থেকে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। মক্কা-মদিনা ছাড়া সে সর্বত্র বিচরণ করবে। দাজ্জালের মাধ্যমে মানুষ দলে দলে গোমরা হয়ে যাবে। তবে খালেস ইমানদাররা তাকে চিনতে পারবে, তার দুই চোখের মাঝখানে কাফের লেখা থাকবে এবং ডান চক্ষু টেরা থাকবে। মহানবী (সা.) বলেন, সমস্ত নবী-রাসুলই তাঁদের উম্মতকে দাজ্জালের ভয় দেখিয়েছেন, তবে আমি তার সম্পর্কে বলছি, তার ডান চক্ষু টেরা, তোমাদের প্রভু টেরা নন। (বুখারি, হাদিস : ৭৪০৮)
মহানবী (সা.) বলেন, দাজ্জালের সময়কাল হবে ৪০। হাদিস বর্ণনাকারী ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমরা জানি না, ৪০ দ্বারা কী ৪০ মাস, নাকি ৪০ বছর বোঝানো হয়েছে। হজরত নাওয়াস ইবন সামআন (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে চল্লিশের প্রথম দিন হবে এক বছর, দ্বিতীয় দিন হবে এক মাস, তৃতীয় দিন হবে এক সপ্তাহ, অবশিষ্ট ৩৭ দিন হবে আমাদের দিনের মতো (মোট ৩৬৫+৩০+০৭+৩৭=৪৩৯ দিন)। পৃথিবীর ধনসম্পদ দাজ্জালের কুক্ষিগত থাকবে। তার আদেশে বৃষ্টি হবে এবং জমিন থেকে ফসল উৎপন্ন হবে।
হজরত ঈসা (আ.)-এর আগমন: হজরত ঈসা (আ.) কিয়ামতের আগে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তাঁর আগমনের পর পৃথিবীতে ইনসাফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর ওফাত হবে। এক বর্ণনা মতে, তাঁকে রাসুল (সা.)-এর রওজা মুবারকের পাশে সমাহিত করা হবে।
ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব: কিয়ামতের আগে হজরত নুহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফাসের বংশে ইয়াজুজ ও মাজুজের আবির্ভাব হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ-মাজুজকে বন্ধনমুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে (কিয়ামত হবে না)। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৯৬)
তারা বর্বর, নিষ্ঠুর ও জালিম প্রকৃতির। তাদের জুুলকারনাইনের প্রাচীর দ্বারা আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে তারা প্রাচীর ভেঙে সমতল ভূমিতে চলে এসে হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজ চালাবে। এদের রোধ করার ক্ষমতা কারো থাকবে না।
কিয়ামতের ১০টি বড় নিদর্শন:
মহানবী (সা.) বলেন, ১০টি নিদর্শন যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা দেখতে পাবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না। তা হলো: ১. ধোঁয়া, ২. দাজ্জাল, ২. দাব্বাহ (জমিন থেকে একটি জন্তুর বের হওয়া), ৪. পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, (কিয়ামতের ১০০ বছর আগে মাত্র এক দিনের জন্য পশ্চিম দিক দিয়ে সূর্য উদিত হবে), ৫. হজরত ঈসা (আ.)-এর আগমন, ৬. ইয়াজুজ-মাজুজের আগমন, ৭. পূর্ব দিকের তিনটি ভূমিকম্প, ৮. পশ্চিম দিকে ভূমিকম্প, ৯. আরব উপদ্বীপের ভূমিকম্প, ১০. ইয়েমেন থেকে উত্থিত আগুন, যা মানুষকে তাড়িয়ে সমাবেশের স্থানে নিয়ে যাবে। (সহিহ বুখারি)
কিয়ামত আর কত দূর?
কিয়ামতের বড় বড় আলামত এখনো পরিদৃষ্ট না হলেও ছোট ছোট আলামতগুলো এমনভাবে সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে, যা রোধ করার ক্ষমতা কারো নেই। কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান থেকে মানুষকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বদদ্বীনি আচরণ ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। মানুষ থেকে নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। হিংসা, লোভ ও অহংকারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিযোগিতা করে অট্টালিকা নির্মাণ করা হচ্ছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের পরিবর্তে দুষ্টের লালন ও শিষ্টের দমনের কার্যক্রম গর্বের সঙ্গে করা হচ্ছে। শিরক, বিদআত, নিফাক ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে, মিথ্যা, আমানতের খিয়ানত, ওয়াদা খিলাফ অহরহ হচ্ছে। সন্তান পিতা-মাতার শুধু অবাধ্য নয়, বরং পিতা-মাতাকে খুন করছে। পিতা-মাতা সন্তানকে আদর-স্নেহ দিয়ে মানুষ করার পরিবর্তে নিজেই হত্যা করছে। যা জাহেলি যুগেও করা হতো না। অন্যায়-অবিচার এত প্রকট আকার ধারণ করেছে যে মানুষ অন্যায়কে অন্যায় মনে করছে না। ন্যায়নীতির পরিবর্তে অন্যায়-জুলুম করা হচ্ছে।
নারীরা পর্দা করার পরিবর্তে পর্দাহীনতাকে অহংকারের বিষয় বানিয়ে নিয়েছে। সুদ-ঘুষ, মদ, জিনা-ব্যভিচার বেড়ে গেছে। জাহেলি যুগের মতো সুদকে ব্যবসার ন্যায় হালাল মনে করা হচ্ছে। ঘুষকে স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে। মদপানকে তুচ্ছ করে দেখা হচ্ছে। পাঁচ বছরের বালিকা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুবতীরা যুবকদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। সমাজে সৎ ও নেককার লোকেরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। অসৎ ও দুষ্ট লোকদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। বদকর্মে পৃথিবী টইটম্বুর হয়ে যাওয়ার ফলে বলতে হয় কিয়ামত আর কত দূর। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, মানুষের হৃদয় কঠিন হয়ে যাবে এবং মারামারি, হত্যাযজ্ঞ বেড়ে যাবে। ’ (সহিহ বুখারি)
খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বে, খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব, এটা প্রত্যেক জাতির ঈশ্বরের দ্বারা চূড়ান্ত এবং শাশ্বত বিচার। এই ধারণা সকল ক্যানোনিকাল ধর্মবাণীতে পাওয়া যায়, বিশেষকরে ম্যাথু ধর্মবাণীতে। খৃস্টান ভবিষ্যতবাদীরা মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের পরে এটি ঘটবে বিশ্বাস করেন, এবং সম্পূর্ণ ভূতকালবাদীরা খ্রীষ্টের পুন অগমনে ইতোমধ্যেই তা ঘটেছে বিশ্বাস করেন। সর্বশেষ বিচারের অনেক শিল্পসম্মত চিত্রায়ন অনুপ্রাণিত রয়েছে।
কিয়ামতের আলামত গুলো মোটামুটি একটি ক্রমধারা রক্ষা করে সাজানো হলো। তবে ভবিষ্যতের আলামতগুলোর সঠিক ধারা বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, " কিয়ামতের আলামত গুলো ( বড় ) একটির পর একটি এমন ভাবে প্রকাশ পাবে যেন একটি পুতির মালা কেটে দিলে তা একটির একটি পরতে থাকে। " ( আল জামী আস সাগীর ৩/১৬৭)
আল্লাহ বলেন -
• তারা শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কেয়ামত অকস্মাৎ তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুতঃ কেয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কেয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে? (সূরা মুহাম্মদ :১৮ )
অতীতঃ
১. চাঁদের দ্বিখণ্ডিত হওয়া।
২. মুহাম্মদ(সা) এর মৃত্যু।
৩. কোন কারণে হাজার হাজার মুসলিমের মৃত্যু (উমার (রা) এর সময় আমওয়াস এর প্লেগকে ধারনা করা হয়)।
৪. মদীনায় একটি বড় যুদ্ধ (ইয়াজিদের খিলাফতের সময় ৬৩ হিজরিতে আল হাররাজের যুদ্ধকে ধারনা করা হয়)।
৫. মুসলিমদের জেরুজালেম জয়।
৬. মুসলিমদের কন্সটান্টিপল জয়।
৭. মুসলিমদের দুই পক্ষের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ।
৮. মুসলিমদের সাথে লাল গাত্রবর্নের ছোট চোখওয়ালা, চুলের সেন্ডেল পরা জাতির যুদ্ধ (মঙ্গোলদের ইসলামিক রাজ্যে আক্রমনকে ধারনা করা হয়)।
৯. মুসলিম ও অমুসলিম হলদে গাত্রবর্নের জাতিদের মধ্যে শান্তিচুক্তি (মঙ্গল, চাইনিজ ইত্যাদি)।
১০. জন ভন্ড নবীর (দাজ্জাল) আবির্ভাব হবে (যাদের আগমন চলছে)।
বর্তমান:
১. উলঙ্গ, দুঃস্থ, খালি পায়ের মেষ পালক উঁচু দালান বানানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে।
২. দাসী তার মালিকের জন্ম দিবে।
৩. আরবের প্রতি ঘরে একটি ফিতনাহ প্রবেশ করবে।
৪. জ্ঞানের গভীরতা নিয়ে নেয়া হবে এবং অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে।
৫. মদ্যপান হালাল মনে করবে।
৬. অবৈধ যৌনাচার বিস্তার লাভ করবে।
৭. ভূমিকম্প বেড়ে যাবে।
৮. সময় অনেক দ্রুত যাবে।
৯. দুঃখ কষ্ট বেড়ে যাবে।
১০. রক্তপাত বেড়ে যাবে।
১১. কেউ কোন কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় ভাববে যদি সে তার পূর্বের মানুষের জায়গায় থাকত।
১২. মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যাবে; যারা নেতৃত্বের যোগ্য না তারা নেতৃত্ব পাবে।
১৩. মানুষ নামাজের জন্য একত্রিত হবে কিন্তু কোন ইমাম পাবে না।
১৪. গান বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বেড়ে যাবে।
১৫. মসজিদ নিয়ে লোকেরা গর্ব করবে।
১৬. মুসলমানেরা শিরকে লিপ্ত হবে।
১৭. ঘন ঘন বাজার হবে।
১৮. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।
১৯. লোকেরা কালো রং দিয়ে চুল-দাড়ি রাঙ্গাবে।
২০. কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে।
২১. ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে।
২২. পরিচিত লোকদেরকেই সালাম দেয়া হবে।
২৩. মহিলাদের জন্য এমন পোষাক আবিস্কার হবে যা পরিধান করার পরও মহিলাদেরকে উলঙ্গ মনে হবে।
২৪. সুন্নাতী আমল সম্পর্কে গাফিলতী করবে।
২৫. নতুন মাসের চাঁদ উঠার সময় বড় হয়ে উদিত হবে।
২৬. মিথ্যা কথা বলার প্রচলন বৃদ্ধি পাবে।
২৭. মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার প্রচলন ঘটবে।
২৮. হঠাৎ মৃত্যুর বরণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
ভবিষ্যৎ:
১. ভূমি ধস ও চেহারা বিকৃতির শাস্তি দেখা দিবে।
২. মু’মিনের স্বপ্ন সত্য হবে।
৩. জড় পদার্থ এবং হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলবে।
৪. কাহতান গোত্র থেকে একজন সৎ লোক বের হয়ে মুসলিমদের নেতৃত্ব দিবেন।
৫. প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, ফসল হবেনা।
৬. পুরুষের সংখ্যা কমতে থাকবে, নারীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে যতক্ষন না ১জন পুরুষের বিপ্রীতে ৫০ জন নারী হয়।
৭. ইউফ্রেতিসে সোনা আবিষ্কার হবে, সেই সোনা লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ হবে আর তাতে অনেকে মারা যাবে।
৮. রোমান(ইউরোপিয়ান)রা আ'মাক বা ওয়াবিক নামক জায়গায় যাবে আর মদীনা থেকে সেরা যোদ্ধাদের সেনাবাহিনী তাদের মুখোমুখি হতে যাবে।
৯. মুসলিমরা রোম জয় করবে।
১০. ইমাম মাহদী আসবে।
১১. দাজ্জাল বা অ্যান্টিক্রিস্ট আসবে, তার ধোঁকাবাজির সকল উপাদান নিয়ে বিশাল বিজয় পাবে। ইরানের ৭০০০০ হাজার ইহুদী তার অনুসারী হবে।
১২. ঈসা(আ) দামাস্কাসে নেমে আসবেন এবং মাহদী এর পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বেন।
১৩. ইমাম মাহদী এর নেতৃত্বে মুসলিম(যেসব ইহুদী ও খ্রিস্টান যীশু(আ) ফিরে আসার পর তার উপর সত্যিকারের বিশ্বাস আনবে তারাও এর অন্তর্ভুক্ত)ও ইহুদী ও অন্যান্য অমুসলিমদের বড় একটি যুদ্ধ হবে।
১৪. ঈসা (আ) দাজ্জালকে হত্যা করবেন লুদ এর প্রবেশ পথে বর্তমানে এটি ইসরাইলের একটি এয়ারপোর্ট ও মেজর মিলিটারি বেস।
১৫. ঈসা (আ) ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন। মিথ্যা খ্রিস্ট ধর্মের পতন ঘটাবেন
ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব হবে।
১৬. ঈসা (আ) এর বাকী সময় অসাধারণ শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে।
১৭. সবার এতো বেশি সম্পদ হবে যে যাকাত দেবার লোক পাওয়া যাবে না।
১৮. আরব বাগান ও নদীর দেশে পরিণত হবে।
১৯. সমাজ আবার খারাপের দিকে যাওয়া শুরু করবে।
২০. যুলখুলসাহ দেবমূর্তির চারপাশে আবারো জাওস গোত্রের নারীরা নিতম্ব দুলিয়ে তাওাফ করবে।
২১. বশরার অধিবাসীরা হিজাজের ভয়ংকর আগুন দেখতে পাবে।
২২. পৃথিবীর তিনটি বড় সেনাদল পৃথিবীতে নিমজ্জিত হবে। একটি পূর্বে, একটি পশ্চিমে, একটি আরবে।
২৩. সরু পায়ের আবিসিনিয়ান (নিগ্রো) নেতা কাবা ধ্বংস করবে।
২৪. ধোঁয়ার বিশাল মেঘ আসবে।
২৫. সূর্য পশ্চিম দিকে উঠবে।
২৬. দাবাতুল আরদের আবির্ভাব হবে মুসা(আ) এর লাঠি এবং সোলায়মান(আ) এ আংটি নিয়ে, সে মানুষের সাথে কথা বলবে, এবং ঈমানদার ওকাফেরদের চিহ্নিত করবে।
২৭. একটি বাতাস এসে সকল বিশ্বাসীদের আত্মা নিয়ে যাবে।
২৮. পৃথিবীতে ‘আল্লাহ সেরা’ বা ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রভু নেই’ বলার মত কেউ থাকবে না।
২৯. সবচেয়ে খারাপ লোকদের উপর কিয়ামত আসবে।
৩০. কিয়ামতের সবচেয়ে প্রধান আলামত হিসেবে ঠিক আগের দিন ইয়েমেন থেকে একটা আগুনের আবির্ভাব হবে আর মানুষদের তাদের মিলিত হবার স্থানে একত্রিত করবে।
৩১. ইস্রাফিল(আ) এর শিঙা বাজানো যার ফলে সবাই মারা যাবে।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট।
Monday, January 1, 2018
আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
মানুষ সৃষ্টির শত শত বছর পূর্বে আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন এ পৃথিবীতে জ্বীন জাতি প্রেরণ করেছিলেন। একপর্যাযে তারা বিভিন্ন অশ্লীল, ফেৎনা, ফাসাদে লিপ্ত হতে থাকে। আল্লাহ পাক ফেরেস্তাদের ডেকে বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ পাঠাতে চাই’। এতে ফেরেস্তারা আপত্তি প্রকাশ করলেন, তারা বললেন, আপনি কি পৃথিবীতে আবার এমন কাউকে পাঠাবেন যারা পূনরায় দুনিয়াতে ফেৎনা ফাসাদে লিপ্ত হবে! তখন মহান আল্লাহ পাক বললেন, ‘নিশ্চই আমি যা জানি তোমরা তা জনো না’। এর পর আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন বাবা আদম (আঃ) ও এক পর্যায়ে মা হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন এবং তাদেরকে দিলেন শ্রেষ্ট জাতির সম্মান। আসুন আমরা এখন জেনে নেব আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মানুষকে কেন সৃষ্টি করেলেন:
আল্লাহর (সুবঃ) বানীঃ “মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।” (সূরা দাহর ৭৬:১-৩)
আল্লাহ্ (সুবঃ) মানবজাতিকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি এবং ভাল-মন্দের জ্ঞান দান করেছেন।সামান্য বীর্য কণা থেকে সৃষ্টি করে আল্লাহ্ মানুষকে অনেক উত্তম অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, অন্যান্য প্রানী থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাদের জীবিকার প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস তিনিই সরবরাহ করছেন।
আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ “নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরা,বনী ঈসরাঈল ১৭:৭০)
আল্লাহ্ মানবজাতির জন্য এ যমীনকে সম্পূর্ণ বসবাস উপযোগী করে দিয়েছেন, আসমানকে তাদের জন্য করেছেন ছাদ স্বরূপ। আল্লাহ (সুবঃ) বলেনঃ “হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে। যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।” (সূরা, বাকারা ২:২১-২২)
এতসব আল্লাহ্ (সুবঃ) এমনি এমনিই দেননি। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ “তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?” (সূরা মু’মিনুন ২৩:১১৫)
মানুষ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ্ (সুবঃ) তায়ালা বলেনঃ “আমি মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য”। (যারিয়াত ৫১:৫৬)
আয়াতের এর ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন অর্থাৎ আমার (আল্লাহর) একত্বকে মেনে নেয়ার জন্যই আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। সুতরাং তাওহীদকে মেনে নিয়ে এককভাবে শুধু আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই আল্লাহ (সুবঃ)মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর এ দিকেই সমস্ত নবী-রাসূলগণ আহবান করেছিলেনঃ “আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসুল প্রেরন করেছি আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেবার জন্য।” (সূরা, নাহল ১৬:৩৬)
সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা। রাসূল (সঃ) বলেছেন-“বান্দার প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।” (মুসলিম)
সুতরাং যে ব্যক্তি শরীকবিহীন অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করে সে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পূরণ করল, আল্লাহর হক্ আদায় করল।আর যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীক করল সে সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর হক্ আদায় করল না। সে তার নিজের ধ্বংস ডেকে আনল, সে কাফির, মুশরিক এবং অকৃতজ্ঞ।অতএব একজন মানুষের উচিত তার নিজের মুক্তির জন্য নিম্নের তিনটি বিষয়ে জানা এবং নিজের জন্য মেনে নেয়াঃ
১। এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা,
২। আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা,
৩। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে রব এবং ইলাহ হিসেবে গ্রহন না করা।
আর কালেমার স্বীকৃতির মাধ্যমে উপরোক্ত তিনটি জিনিসেরই স্বীকৃতি দেয়া হয়।
তাই আসুন, আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে যে কারণে সৃষ্টি করেছেন সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই মহান মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করে চির সুখের জান্নাত লাভ করি। আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে তার দেখানো রাস্তায় চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Friday, December 22, 2017
জান্নাতে কিসের অভাব?

‘জান্নাত’ চির সুখের একটি যায়গা। হাদীসের মধ্যে পাওয়া যায়, সর্বনিম্ন জান্নাতের পরিধি হবে ১০টি পৃথিবীর সমান। জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোনো সওয়ারি যদি ১০০ বছরও বাহন হাঁকায় তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। সেখানে শুধু সুখ আর শান্তি। কেউ কখনো সেখানে কোনো অভাব উপলদ্ধি করবে না।
আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন কোরানের মধ্যে বলেছেন, ‘হে আমার বান্দাগণ আজকের দিনে তোমাদের কোনো ভয় নেই, তোমরা চিন্তিতও হবে না। যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি)। তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে জান্নাতের প্রবেশ কর। (সুরা যুখরুফ: আয়াত ৬৮-৭০)
সেখানে আরাম- আয়েশ, সুখ-শান্তি, আমোদ-প্রমোদ, চিত্ত বিনোদন ও আনন্দ-আহলাদের চরম ও পরম ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ভোগ-বিলাস ও পানাহারের আতিশয্য। জান্নাতীরা যা কামনা করবে কিংবা কোনো কিছু পাওয়ার আহবান জানাবে, সকল কিছু পাবে। সেখানে সবাই যুবক হয়ে বাস করবে। শরীরে কোনো রোগ-শোক, জরাজীর্ণতা, মন্দা, বার্ধক্য, দুর্বলতা ও অপারগতা থাকবে না। যত ধরনের ফল-ফলাদি, খাদ্য-খাবার, পানীয়, দুধ, মধু সুস্বাদু খাবার সব খেতে পারবে। ভোগ-বিলাসের সকল উপায়-উপকরণ বিদ্যমান। সেগুলো স্বাদ ও গন্ধে অপূর্ব। আমোদ-প্রমোদ, ভ্রমন-বিহার, খেলা-ধুলা, বেড়ানো, বাজার করা ও শুভেচ্ছা-স্বাগত জানাতে পারবে। প্রাচুর্যের কোনো অভাব হবে না। দ্রুতগামী যানবাহনসহ মনের ইচ্ছা চোখের নিমির্ষে পূরণ করতে পারবে।
জান্নতে তো সব কিছুই চাইলেই পাওয়া যায়, তবে সেখানে অভাব কিসের? হুম সেখানে একটা জিনিসের বড় অভাব রয়েছে। সারা জান্নাত তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যাবে না সেই জিনিসের অস্তিত্ব। আর সেটা হচ্ছে ‘অসুখ’। আমরা জানি সুখের বিপরিতেই হচ্ছে অসুখ, অশান্তি, রোগ, শোক ইত্যাদি। জান্নাতে শুধু সুখ আর সুখ। শান্তি আর শান্তি। সেখানে অসুখ আসবে কোত্থেকে!
আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন বলেন, ‘তারা সেখানে কখনও কোন দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হবে না এবং কোনোদিন সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে না।’ (সূরা হিজর: ৪৮)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘(জান্নাতীগণ বলবে) তিনি আমাদেরকে নিজের অনুগ্রহে চিরন্তনী আবাস্থল দান করেছেন এবং আমাদের কোন দুঃখ এবং ক্লান্তি নেই।’ (সূরা ফাতির: ৩৫)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অর্থঃ ‘যারা জান্নাতে যাবে তারা সর্বদা স্বচ্ছল অবস্থায় থাকবে, দারিদ্র ও অনাহারে কষ্ট পাবে না। তাদের পোশাক পুরাতন হবে না এবং তাদের যৌবনও কোনদিন শেষ হবে না।’ (মুসলিম: ২৮৩৬)
আসলে মানুষ দুনিয়াতে সামান্য সুখের আশায়, সামান্য সম্পদের জন্যে কত কিছু করে! কত পরিশ্রম করে সম্পদ উপার্জন করে কিন্তু একপর্যায়ে এসে সেটা সে আর ভোগ করতে পারে না। সেই সম্পদের পেছনে ছুটতে ছুটতে এক সময় তার ভোগ কারার সময় শেষ হয়ে যায়। অথচ দশটা পৃথিবীর সমান যে জান্নাতের কথা মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেছেন সেটান জন্যে আমরা কতটুকু শ্রম দিচ্ছি? এটাই চিন্তা করার বিষয়।
আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে তার দ্বীনের পথে পরিচালিত করে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
Monday, December 4, 2017
রাসুল (সাঃ) এর চেহারা মুবারক দেখতে কেমন ছিল?
যে কোনো ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করার ব্যাপারে তার দৈহিক সৌন্দর্য অনেক সাহায্য করে। মানুষের আপাদমস্তক দেহের গঠন এবং তার অংগ প্রত্যংগের সুঠামতা দ্বারা বুঝা যায় সে মানসিক, নৈতিক ও চেতনাগত দিক দিয়ে কোন স্তরের মানুষ। বিশেষত চেহারা বা মুখমন্ডলে মানবীয় চরিত্র ও কীর্তিকলাপের সমস্ত ইতিবৃত্ত লেখা থাকে। তার ওপর একটা দৃষ্টি দিলেই আমরা ওটা কোন্ ধরণের মানুষের চেহারা তা আঁচ করতে পারি।
আমরা যারা পরবর্তীকালে পৃথিবীতে এসেছি, তারা এদিক দিয়ে ভাগ্যাহত যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষটির অনুপম চেহারা আমাদের সামনে নেই এবং তা চর্মচক্ষু দিয়ে এ জগতে দর্শনের সুযোগও পাবনা। আমরা রসূল সা. এর দৈহিক সৌন্দর্যের যেটুকু ঝলক দেখতে পাই, তা কেবল তাঁর বাণী ও কীর্তির দর্পণেই দেখতে পাই।
দৈহিক সৌন্দর্য: আব্দুল্লাহ বিন সালাম ইহুদীদের একজন মস্ত বড় আলেম ছিলেন। তাঁর নাম ছিল হাসীন। রসূল সা. মদীনায় এলে ইনি তাঁকে দেখতে যান এবং দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি রসূল সা. কে দেখেই চিনে ফেলেছিলাম। তাঁর চেহারা একজন মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারেনা।’’ তার যে ধারণা জন্মে সেটাই তিনি এখানে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈমান আনলেন এবং তার ইসলামী নাম হলো আবদুল্লাহ। (সীরাতুল মুস্তাফা, মাওলানা ইদ্রীস কান্ধুলতী। প্রথম খন্ড, পৃঃ ৩৪১-৩৫০)]
মুখমণ্ডল: ‘‘পূর্ণিমার চাঁদের মত গোলাকার।’’-বারা বিন আযিব। ‘‘তাঁর মুখমণ্ডল পুরোপুরি গোলাকার ছিলনা।তবে প্রায় গোলাকার।’’-হযরত আলী। ‘‘প্রশস্ত কপাল, বাঁকানো, চিকন ও ঘন ভ্রু, উভয় ভ্রু আলাদা, উভয় ভ্রুর মাঝখানে একটা উঁচু রগ ছিল, রাগান্বিত হলে এই রগ স্পষ্ট হয়ে উঠতো।’’ -হিন্দ বিন আবি হালা ‘‘কপালে আনন্দের চিহ্ন ফুটে উঠতো।’’-কা’ব ইবনে মালেক
বর্ণ: হযরত আনাস রা: বলেছেন, রাসূল (সাঃ) এর চেহারা চুনের মত সাদাও নয়, শ্যাম বর্ণেরও নয়। গমের মত রং তবে একটু সাদাটে।’’ হযরত আলী (রাঃ) বলেন, তিনি দেখতে ‘‘লালচে সাদা।’’ হযরত আবু হুরায়রা বলেন, ‘‘শরীরটা যেন রূপার তৈরী।
মহানবী (সাঃ) যেমন তুলনাহীন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন, তেমনি ছিলেন রূপের অধিকারী। ছিলেন একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ ছিলেন। মহান রাব্বুল আলামিন তাকে অতুলনীয় বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন। আল্লাহ পাক তার প্রিয় নবীর সম্মানে বলেছেন, ইন্নাকা লা আলা খুলুকিন আযীম’, অর্থাৎ নিঃসন্দেহে আপনি সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী’। এটি এমন তুলনাবিহীন গুণ যার কারণে মানুষ তার প্রতি ছুটে আসত। তার প্রতি মানুষের মনে ভালোবাসা ছিল বদ্ধমূল। মানবীয় গুণাবলীর সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যের কারণে তার স্বজাতির রুক্ষতা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকেও এমন সুন্দর নৈতিক চরিত্র দান করুন। আমীন। সূত্র: মানবতার বন্ধু রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
Saturday, November 25, 2017
সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশ করবেন যে ব্যক্তি!
.jpg)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সর্ব শেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে একজন পুরুষ। কখনো সে হাটবে, কখনো উপুড় হয়ে চলবে, কখনো আগুন তাকে ঝলসে দিবে। যখন এ পথ অতিক্রম করে সামনে চলে যাবে, তখন সে তার দিকে ফিরে বলবে: বরকতময় সে আল্লাহ, যিনি আমাকে তোমার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। আল্লাহ আমাকে এমন জিনিস দান করেছেন, যা আগে-পরের কাউকে তিনি দান করেননি।
অতঃপর তার জন্য একটি বৃক্ষ উম্মুক্ত করা হবে। সে বলবে, হে আল্লাহ! এ বৃক্ষের কাছে নিয়ে যাও, যাতে এর ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারি, এর পানি পান করতে পারি। আল্লাহ বলবেন: হে বনি আদম, আমি যদি তোমাকে এটা প্রদান করি, তুমি নিশ্চয় আরেকটি প্রার্থনা করবে। সে বলবে: না, হে আমার রব! সে এর জন্য ওয়াদাও করবে। আল্লাহ বার বার তার অপরাগতা গ্রহণ করবেন। কারণ, সে এমন জিনিস দেখবে যার উপর তার ধৈর্যধারণ সম্ভব হবে না।
অতঃপর আল্লাহ তার কাছে নিয়ে যাবেন, সে তার ছায়ায় আশ্রয় নিবে, তার পানি পান করবে। অতঃপর আগের চেয়ে উত্তম আরেকটি বৃক্ষ তার জন্য উম্মুক্ত করা হবে। তখন সে বলবেঃ হে আমার রব! এ বৃক্ষের কাছে নিয়ে যাও, এর ছায়াতলে আশ্রয় নিব, এর পানি পান করব। এ ছাড়া আর কিছু প্রার্থনা করব না।
তখন আল্লাহ তাকে মনে করিয়ে দিবেন ‘হে বনি আদম, তুমি কি আমার সাথে ওয়াদা করনি যে, আর কিছু প্রার্থনা করবে না? এর কাছে যেতে দিলে তুমি আরো অন্য কিছু প্রার্থনা করবে। অতঃপর সে প্রার্থনা না করার ওয়াদা করবে। আল্লাহ তার অপরাগতা কবুল করবেন, কারণ সে এমন জিনিস দেখবে, যার ওপর তার ধৈর্যধারণ সম্ভব হবে না। অতঃপর তাকে সে গাছের নিকটবর্তী করা হবে। সে তার ছায়াতলে আশ্রয় নিবে, তার পানি পান করবে।
অতঃপর জান্নাতের দরজার নিকট আরেকটি বৃক্ষ উম্মুক্ত করা করা হবে, যা আগের দুই বৃক্ষ থেকেও উত্তম। সে বলবে : হে আল্লাহ, এ বৃক্ষের নিকটবর্তী কর, আমি তার ছায়াতলে আশ্রয় নিব, তার পানি পান করব, আর কিছু প্রার্থনা করব না। আল্লাহ্ বলবেন, ‘হে বনি আদম, তুমি আর কিছু প্রার্থনা না করার ওয়াদা করনি? সে বলবে, হ্যাঁ, তবে, এটাই শেষ, আর কিছু চাইব না। আল্লাহ তার অপরাগতা কবুল করবেন। কারণ, সে এমন জিনিস দেখবে, যার ওপর ধৈর্যধারণ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহ তার নিকটবর্তী করবেন। যখনতার নিকটবর্তী হবে, তখন সে জান্নাতবাসীদের আওয়াজ শুনতে পাবে।
সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে এতে প্রবেশ করাও। আল্লাহ বলবেনঃ হে বনি আদম, তোমার চাওয়া আর শেষ হবে না। তোমাকে দুনিয়া এবং এর সাথে দুনিয়ার সমতুল্য আরো প্রদান করব, এতে কি তুমি সন্তুষ্ট হবে? সে বলবেঃ হে আল্লাহ! তুমি দুজাহানের রব, তা সত্বেও তুমি আমার সাথে উপহাস করছ!? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ গঠনা বলতে বলতে হেসে দিলেন।
সাহাবারা তাঁকে (সাঃ) কে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, কেন হাসছেন ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর হাসি থেকে আমার হাসি চলে এসেছে। যখন সে বলবেঃ আপনি দু’জাহানের মালিক হওয়া সত্বেও আমার সাথে উপহাস করছেন? তখন আল্লাহ বলবেনঃ আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না; তবে কি, আমি যা-চাই তা-ই করতে পারি। আরো প্রার্থনা করার জন্য আল্লাহ তাকে বললেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। যখন তার সব চাওয়া শেষ হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ বলবেনঃ এ সব তোমাকে দেয়া হল এবং এর সাথে আরো দশগুন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ অতঃপর সে তার ঘরে প্রবেশ করবে এবং সাথে সাথে তার স্ত্রী হিসেবে দু’জন হুরও প্রবেশ করবে। তারা তাকে বলবেঃ সমস্ত প্রসংশা সে আল্লাহর, যিনি আপনাকে আমাদের জন্য জিবীত করেছেন এবং আমাদেরকে আপনার জন্য জিবীত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে বলবেঃ "আমাকে যা দেয়া হয়েছে, তার মত কাউকে দেয়া হয়নি।" (সুবহানআল্লাহ)
মহান আল্লাহ্ রব্বুল আ'লামিন আমাদের সবাইকে জান্নাত দান করুন। আমিন। (সহীহ মুসলিম- ১৮৭)
Wednesday, July 26, 2017
""কুরআন ও বিজ্ঞান""

বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে যে, চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। অথচ সূরা ফুরকানের ৬১ নং আয়াতে পবিত্র কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। বিজ্ঞান মাত্র দুশো বছর আগে জেনেছে যে, চন্দ্র এবং সূর্য নিজ নিজ কক্ষ পথে ভেসে চলে। সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে যে, মানুষের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব, যা বিজ্ঞান আজ প্রমাণিত বলে ঘোষনা দিচ্ছে। 'বিগ ব্যাং থিওরি' আবিষ্কার হয় মাত্র কয়েক বছর আগে অথচ সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। পানিচক্রের কথা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে কিছুকাল আগে অথচ সূরা যুমার ২১ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। বিজ্ঞান এই সেদিন জেনেছে লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানি একসাথে মিশ্রিত হয় না কিন্তু সূরা ফুরকানের ২৫ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে। ইসলাম আমাদেরকে ডান দিকে ফিরে ঘুমাতে উৎসাহিত করেছে আর বিজ্ঞান এখন বলছে ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভাল থাকে। ইসলাম মদ পানকে হারাম করেছে ১৪০০ বছর আগে আর চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন বলছে মদ পান লিভারের জন্য ক্ষতিকর। ইসলাম শুকরের গোশতকে হারাম করেছে। বিজ্ঞান আজ বলছে শুকরের মাংস লিভার ও হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন এর ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক বছর আগে অথচ সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে কুরআন এই বিষয়ে বর্ণনা করেছে ১৪০০ বছর আগে। মানুষের 'জন্মতত্ত্ব' 'ভ্রুন তত্ব' সম্পর্কে বিজ্ঞান জেনেছে এই ক'দিন আগে। অথচ সূরা আলাকে কুরআন এই বিষয়ে জানিয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগে। 'ভ্রন তত্ত্ব' নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে পুরুষই (সন্তান ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। অথচ কুরআন সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াতে এবং সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭-৩৯ নং আয়াতে এই কথা আমাদেরকে জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে। বিজ্ঞান আজ বলছে, একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন সে আগে কানে শোনার যোগ্যতা পায়, তারপর পায় চোখে দেখার। অথচ সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াতে এবং সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭-৩৯ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তরগুলো নিয়েও কুরআন বিস্তর আলোচনা করেছে, যা আজ প্রমাণিত। পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা, সমান্তরাল অথচ কুরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে দিয়েছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার। পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দুশ' বছর আগে। অথচ সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে দিয়েছে ১৪০০ বছর আগে!! আসলে পবিত্র আল কুরআনই চিরন্তন সত্য এবং জীবন্ত নির্ভুল বিজ্ঞান। সুবহানআল্লাহ ! আল্লাহু আকবর !







