Showing posts with label Love Stories. Show all posts
Showing posts with label Love Stories. Show all posts

Friday, June 28, 2019

একটি ভালবাসা ও প্রতারণার গল্প

একটি ভালবাসা ও প্রতারণার গল্প

একটি ভালবাসা ও প্রতারণার গল্প
★★★★★★★★★★★★★
সত্য কাহিনী অবলম্বনে একটি সম্পূর্ণ গল্প ।
পড়ে হয়তো আপনাদের বিবেক এ
নাড়া দিতে পারে…… গল্পটা একটু বড়
এড়িয়ে যাবেন না …..
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ফেসবুক থেকে লগ আউট করার সময় হঠাত
জান্নাতুল 
নামের একটি মেয়ের
আইডি দেখতে পায় আকাশ। মিচুয়াল ফ্রেন্ড
অনেক ।আকাশ এত মিচুয়াল ফ্রেন্ড
দেখে জান্নাতুল কে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট
পাঠালো।এমনিতে আকাশ খুব খুব দ্রুত
মিলতে পারে। ফেসবুক  আইডি খোলার পর থেকে অনেক
অচেনা মানুষকে আপন করে নিয়েছে।
বাড়িয়েছে বন্ধত্বের হাত । অনেক
মেয়ের সাথেই তার
খোলামেলা বন্ধুত্ব । ভার্চুয়াল জগতের
এসব বন্ধুত্ব আকাশ খুব উপভোগ ও করে। এদের
মধ্যে দু একজন তার সত্যিকার ভাল বন্ধু
হিসেবেও জীবনে আবির্ভূত হয়।
দুই –তিন দিন পর জান্নাতুল হাই  আকাশের রিকুয়েস্ট গ্রহন
করে । এরপর স্বভাবতই জান্নাতুল হাই  আকাশ কে চ্যাট
মেসেজ দেয়।জান্নাতুল হাইও প্রতিত্তর দেয়।
শুরুটা এইভাবে । এইভাবে প্রতিনিয়তই
চলতে থাকে আকাশ আর জান্নাতুল হাই চ্যাটইন ।                               
জান্নাতুল হাই আগ্রহ দেখে আকাশ  জান্নাতুল হাইকে তার ভাল বন্ধু
বানাতে উৎসাহ প্রকাশ করে । এরপর দিন
যায় ,সপ্তাহ যায় শুধুই ফেসবুক
চ্যাটইন ,দুজনের মধ্যে একটা ভাল বন্ধুত্ব
গড়ে উথে।পারিবারিক,বাক্তিগত
অনেক কথাই তারা শেয়ার করে।
তবে এর মাঝে সাহস করে  জান্নাতুল হাই এর
কাছে মোবাইল নাম্বার চায়।জান্নাতুল হাই কোন
রকম তাল-বাহানা ছাড়াই নাম্বার
দিয়ে দেয়।এর পর মোবাইলেও তাদের
চ্যাটইন,টকইন হত। আকাশ রাত
জেগে পড়াশুনা করত আর সেই
সাথে ফেসবুক আথবা মোবাইলে জান্নাতুল হাই এর
সাথে চ্যাটইন করত ।জান্নাতুল হাই এর তেমন রাত
জাগার অভ্যাস ছিল না, তাই
মাঝে মাঝে সে ঘুমিয়ে পরতো। আর
তখুনি আকাশ মোবাইলে কল
দিয়ে জান্নাতুল হাই কে উঠিয়ে চ্যাটইন করতে বলত।
খুব সহজ আর সাবলীল ভাবে দুজনের
মাঝে বন্ধুত্ব হয়,জানতে জানতে এক সময়
শুভ্র জানতে পারে জান্নাতুল হাই  পরিবার অনেক
উচ্চ শিক্ষিত হলেও তাদের
পরিবারে শান্তি ছিল না।তার মামা আর নানী
ও বড়  বোন  সব
সময় ঝামেলা বাধিয়ে রাখতো।
জান্নাতুল হাই  কে অকারণেই বকাঝকা করতো।
একারণে জান্নাতুল হাই মন বেশিরভাগ সময়ই
খারাপ থাকতো,আর তখন  আকাশ  তার মন
ভালো করার আপ্রান
চেষ্টা করতো এবং করত ও ।
জান্নাতুল হাই  গাইবান্দা স্কুল
থেকে ২০১৭ সালে এস এস সি পাশ করে।
আকাশ ঢাকায় পড়াশুনা করে ।তারপর জান্নাতুল হাই আকাশের পিকছার চায় , আকাশ পিকছার দেয় ”এবং জান্নাতুল হাই পিক দেখার পর   আকাশ কে প্রপোজ করে ।
আই লাভ ইউ বলে। আকাশ তো ‘থ’ মেরে যায়।
জান্নতুল কে আকাশ শুধু ভাল বন্ধু হিসেবেই
দেখতো  । আকাশ
রিলেশন করতে চায় না,সবার
সাথে বন্ধুত্বটাই সে উপভোগ করে আবার
সমবয়সী কারও সাথেও তো রিলেশন
করবে না বলেই তার পণ । এভাবেই
চলতে লাগলো আর জান্নতুল হাই
চাপাচাপি বাড়তে লাগলো । সে শুধু
দেখা করতে চাইছে । শেষমেষ আকাশ
দেখা করার জন্য রাজি হল । আকাশ শুধু
ভাল বন্ধু হয়ে থাকার অনুরোধ জানায় ।
কিন্তু বাড়াবাড়ি 
করতে থাকে । ঘুমের ঔষধ ,ইন্সুলিন
ইত্যাদি খাবে বলে হুমকি দেয় । আকাশ বলে ঠিক আছে,তুমি আমার ধোকাবাজি করবে না তো
জান্নাতুল হাই বলে না । এভাবেই
চলতে লাগলো ।একদিন জান্নাতুল হাই বলে তার ইমুতে কে যেন ও গুরুপ খুলছে পরে আকাশ ঠিক করতে গিয়ে অনেক চ্যাট দেখে,কিন্তু কিছু বলল না। আকাশ ভাল একটা বন্ধু
হারানোর ভয়ে বার বার
জান্নাতুল হাই কে  ক্ষমা করে দেয় ।
কিন্তু বাস্তব সত্যটা একটু অন্যরকমই ছিল ।
আকাশ তখন টা জানত না ।
জানলে হয়তো অনেক আগেই ফ্রেন্ডশিপ
ব্রেক করতো । যাই হোক সেসব কথায় পরে আসা যাক।
আকাশ জান্নাতুল হাই ফোন এবং ইমু ব্যস্ত পায়।
তাকে জিজ্ঞাগাসা করলে সে মিথ্যা কথা বলত।
পরে সে আকাশের ফোন ধরত না ,এবং বলত আমার সাথে আমার মামাতো বোন থাকে।
তাই তোমার ফোন ধরিনি,কিন্তু সে অন্য কারো সাথে সময় দিত।
, , আকাশ
পরে যা নিশ্চিত
ভাবে জানতে পারে ।জান্নাতুল হাই এক প্রকার
লোভী, সার্থপর আর
সর্বশেষে চরিত্রহীনা ছিল । আকাশের
সাথে কথা বলার সময় সে অন্য
ছেলেদের সাথে rltn রেখেছে ।
পরে জান্নাতুল স্বীকার করেছে ।এমন
কি বয়সে ছোট ছেলের সাথে ও সে rltn
করেছে ।তাদের কাছ থেকে ও জান্নাতুল
টাকা দার নিতো কিন্তু ফেরত
দিতো না ।তবে সে সব
চেয়ে বেশি ব্যবহার আকাশকেই করেছে ।
আকাশ কে বিয়ে করতে চাইত সে।  আকাশ কে নিজের
করে রাখা ,সাথে অন্য ছেলে দের
সাতঝে টাইম পাস ,আকাশ কে তার বয়
ফ্রেন্ড বানিয়ে সবার
কাছে বলতে লাগল।  জান্নতুল হঠাৎ করে আকাশের সাথে কথা বন্ধ করে দেয়।
তার কিছু দিন পর তার ইমুতে কে যেন একটা গুরুপ খোলে।
, জান্নাতুল 
সরাসরি আকাশের উপর দোষ চাপায় । কিন্তু জান্নাতুল তো আকাশ বল্ক করে রাখছে।
সে কি ভাবে গুরুপ খুলবেেআকাশ এসবের 
 কিছুই জানত না ।জান্নাতুলের মিথ্যে কথায় আকাশ বেশি কষ্ট পায় ।
আকাশ হারাতে লাগল তার আত্নসম্মান।একটা
চরিত্রহীনার মিথ্যে কথায় ।
জান্নাতুল আকাশের সাথে কথা বলার পর অন্য একটি ছেলের সাথে rltn করে ।
এখন ও চলছে ছেলেটি  একটি এপেক্স অফিসে চাকুরী করে।
এর সাথে বেশ
খুলাখুলি রিলেশন এ গিয়েছে বলে আকাশ
শুনেছে । তারা ঘুরতে যায় এটা আকাশের
বন্ধুরা দেখেছে । হয়তো কিছু দিন পর
একে ও ব্যবহার করা শেষ
হয়ে যাবে  ।তাদের কথা আর নাই
বা বললাম ।হায়রে মানুষ !!!
মানুষ নিজের স্বার্থের জন্য কত
কি করতে পারে । নিজের চরিত্র
বিসর্জন ও ?? অবশ্য এই সব মেয়েদের
মধ্যে চরিত্র বলতে কিছু ছিল
বলে মনে হয় না ।তারা জন্মায় ই
নিজেদের পিচাশ
বা চরিত্রহীনা হিসেবে পরিচিতি পাবার
জন্য । আর বন্ধুত্বের মত পবিত্র
সম্পর্ককে কালিমা লেপনের জন্য ।যখন
বন্ধুকে (!) ব্যবহার শেষ হয় তখন তাকে সবার
কাছে খারাপ
বানিয়ে নাচতে নাচতে নতুন
ব্যবহারযোগ্য বন্ধু বানায় ।
ভাবতে পারেন এমন বন্ধুত্বের কথা ??
একবার ভাবুন তো এমনটা আপনার
সাথে ঘটলে কি হত ??? নিজেকে আকাশ
জায়গায় কল্পনা করুন তো ……???
দেখুন তো জান্নাতুল কে মানুষ মনে হয়
কি না???? কি মনে হয়………………………. ????????
আপনাদের কেমন লাগলো কমেন্ট
করে জানান ,  জান্নাতুলদের মত কোন
মেয়েরা যেন আকাশের মত আর কোন
ছেলে কে ব্যবহার করতে না পারে সেই
জন্য শেয়ার করুন★★

Friday, June 7, 2019

প্রতিদিন আমারে ফোন দিবা.ঠিক মত খাবা.আর...

প্রতিদিন আমারে ফোন দিবা.ঠিক মত খাবা.আর...

- প্রতিদিন আমারে ফোন দিবা...ঠিক
মত খাবা...আর
শহরের যে সুন্দর সুন্দর মাইয়ারা আছে
ওদের
দেইখা আমারে একদম ভুইলা যাইবা না
কও?
- তোমারে কেমনে ভুলব? নিজের
থেইকা বড়
বেশি ভালবাসি তোমারে।
- আমি শুনছি সব পোলারা এমনে কথা
কয়।কিন্তু ওরা
কথা রাখে না।তুমি কিন্তু ওদের মত
না।কথা রাখবা
কিন্তু....
এতটুকুর পর আর কথা বের হল না শশীর।
কান্নায়
ভেঙে পড়ল।আজ তার প্রহর চলে যাচ্ছে
তাকে
ছেড়ে।বাসও এসে গেছে।এক হাতে
ওড়না
দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছে।
- এবার যাইতে দাও।সময় হয়ে গেছে।আর
এমনে
যদি কান্দো আমি যাইতে পারব না...
- আচ্ছা যাও...
আর শোন...এইডা নিয়ে যাও।
- কি এইডা?
- এর ভেতর কিছু টাকা আছে।আব্বাজান
স্কুলে
যাওয়ার সময় দিত আগে।সেইডা এক
মাটির ব্যাংকে
জমাইছিলাম।আইজ ভাংছি তোমার
লাইগা।
- এইডা কেন করলা শশী? আমি তো
কিছুই দিতে
পারিনাই তোমারে।
- কে কইছে কিছুই দাও না।এই যে
আমারে এত
ভালবাস আমারে।এর থেইকা বেশি
কিচ্ছু চাইনা আমি।
এবার ছেলেটা নিজের অজান্তেই
কেঁদে
ফেললো। শশীর হাত ধরে বলল...
- আজীবন আমার পাশে থাকবা এমনে
কইরা।
গেলাম.....
কিছুক্ষণ পর বাস থেকে আবার নেমে এল
ছেলেটি।মেয়েটি তখনো মূর্তির মত
দাড়িয়ে
রয়েছে।
- কি হইছে নামলে কেন?
- একটা কথা কইতাম....
- কি কও?
- তোমারে যে একটা কবুতরের বাচ্চা
দিছিলাম না?
ওইটার কিন্তু খুব যত্ন নিবা।ওর মা টা
মইরা গেছে আমার
মা মরনের কয়দিন পরেই।আমিই ওর সব
ছিলাম এতদিন।
আজ আমিও চইলা যাচ্ছি.....
- তুমি এত চিন্তা কেন করতেছ? আমি
আছি না? তুমি
যতদিন না আইবা,আমি মনে করব ওই
আমার প্রহর.......
;
ব্যস্ততম শহরে প্রথম দিন পা রেখেই
মায়ের
রেখে যাওয়া ফোনটা হারাতে হল
প্রহরকে।যার
সাথে শেষ হল শশীর সাথে
যোগাযোগের
এক মাত্র মাধ্যম।অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে
খুজে
পেতে হল তার ক্যাম্পাস হোস্টেল।
এখানে
কেউ কারো সহযোগীতা করার জন্য
বসে
থাকে না।এখানে কেউ শশী নয়।কয়েক
মাস
কিভাবে যেন কেটে গেল।টাকা যা
ছিল সেটা
শেষ।রুমমেট এর থেকে ধার দেনা করে
চলল
আরো কিছুদিন।কিন্তু ক দিন বা
এভাবে? ওদের
কাছে এখন ধার চাইতেও লজ্জা বোধ হয়
তার।হঠাৎ
শশীর দেয়া পুটলি টার কথা মনে পড়ে
গেল
প্রহরের।ওটা ব্যাগ থেকে বের করে
দেখল
কয়েক টা একশ টাকা,পঞ্চাশ, বিশ,দশ.....
মেয়েটাকে খুব বেশি মনে পড়ল তার।
কত দিন
গেল কথাও হল না।অথচ কলেজ ফাকি
দিয়ে বিলের
ভেতর এক সাথে কত পথ চলা তাদের.....
এসব ভেবে কখন যে কেঁদে ফেললো.....
একটু পরেই এক রুমমেট এসে টাকা
চাইলো।
ধারের টাকা, চাইবে এটাই
স্বাভাবিক। হাতের টাকা গুলার
দিকে চেয়ে রইলো প্রহর।খুব মায়া
লাগছে
কাউকে দিতে মন চাইছে না তার।এটা
যে তার শশী
একটু একটু করে জমিয়েছে.......
অবশেষে দেনা মুক্ত হল প্রহর।কিন্তু শশীর
শেষ সম্পদ টুকু আর থাকলো না।
;
এভাবে সাগরে ভাসার চেয়ে নিজ
গ্রামে গিয়ে
জমিতে হাল ধরা আর শশীর হাতের
মাখা ভাতেই সুখ
মনে হল প্রহরের কাছে।পড়ালেখা কি
সবার জন্য
হয় নাকি? যার মা বাবা কেউ নেই
তার আবার কিসের
পড়ালেখা।কিছু টাকা হলে গ্রামে
চলে যাবে স্থির
করল প্রহর।কিন্তু এই কটা টাকাই বা কে
দেবে
তাকে! বন্ধুদের অনেক কেই বলল। কিন্তু
অতটা
কাছের বন্ধু কেউ নেই তার।শহুরে
কালচারের
সাথে ঠিক মিশতে পারেনি
ছেলেটা।আর তাই আজ
কেউ নেই তার পাশে।রাতের বেলা
বের হয়ে
গেল ব্যাগ ঘাড়ে করে।বাসে চড়ার
টাকা নেই ঠিকিই,
তবে বাসের ছাদে চড়ার মত শক্তি তো
আছে!চুরি
করে বাসের ছাদে চড়ে বসলো প্রহর।
কিন্তু
ছাদে সে একা না।বেশ কয়েকজন
শ্রমিক আছে
উপরে।ঝুড়ি,কোদাল,এসব দেখে বোঝা
যায় এরা
কোথাও কাজের জন্য যাচ্ছে।নিজের
কাপড়ের
দিকে তাকিয়ে দেখে কাপড় গুলা
ওদের মত না
হলেও খুব ভাল না।ওদের মাঝে
নিজেকে সপে
দিল।এভাবে লুকোচুরি করে ভোরে
নিজ গায়ে
পৌঁছে গেল প্রহর।
প্রচন্ড খুদায় পেট চো চো করছে।গত
দুপুরে
খাওয়া হইছিল।সব কিছু আগের মতই আছে।
নয় মাসে
কি বা আর বদলাবে? শশীর কথা মনে
হতেই ক্ষুদা
ভুলে গেল প্রহর।ছুটলো শশীর সাথে
দেখা
করতে.....
শশীর বাড়িটা ফাকা পড়ে আছে, কেউ
নেই
বাড়িতে।ডাকাডাকি করেও কেউ এল
না।দরজা ঠেলে
ভেতরে দেখে বিছানায় পড়ে আছে
শশীর বড়
বোন।কথা বলতে পারছেনা।চোখ
মেলে
দেখছে সব।প্যারালাইজড......
স্তব্ধীভূত হয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে রইলো
প্রহর।
বাড়ির পেছন থেকে ক্রাচে ভর করে
এগিয়ে
এল শশীর মা।বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে
ছেলেটা।এই
ক দিনে এত কিছু কিভাবে হয়ে গেল!
- চাচী কি হইছে এসব কি?
- বাপ তুই না পড়তে গেছি শহরে? আইলি
কবে?
- আমার কথা বাদ দাও।আমি কি
দেখতাছি এসব?
একটু তাচ্ছিল্ল্যের হাসি দিয়ে
বললো।...
- আল্লাই কপালে যা লিখছে তাই
হইছে বাজান।কি আর
কই তোরে।বয় তর লাইগা মুড়ি
আনি,খায়া যাইস....
- লাগব না চাচী। শশি কই?
- মায়া ডা ওহনো আয়নাই মনে হয়...
- মানে কই গেছে ও ?
- কিছু কওনের ভাষা নাই বাপ।মাইয়ার
লগে খুব বড়
অন্যায় করছি রে...
- কি করছ কইবা তো?
হু হু করে কেঁদে উঠলো মহিলা।কন্ঠস্বর
কেঁপে যাচ্ছে কথার তালে।
- চাচী কান্দো কেন? কি হইছে কও
আমারে.....
মহিলার অবস্থা আর চোখ দেখে
নিজেকে শক্ত
করার চেষ্টা করছে প্রহর।খারাপ কিছু
হয়েছে
সেটা বোঝার বাকি নেই।ঘামতে শুরু
করেছে
ছেলেটা।
- চাচী চুপ কইরা আছো কেন??? কও না.....
- শশীর বাপে ওর বিয়া দিছিলো জোর
কইরা।মাইয়া
আমার বিয়া করতে চাই নাই।শুধু চোখ
ভিজাইত।কেউ
ওর কথা শুনি নাই...
দু দাতের মাঝে ঠোট নিস্পেশিত
হচ্ছিল প্রহরের।
কথা গুলা কেমন হাওয়ায় ভাসছে।কান
গুলা কিছু শুনতে
চাচ্ছে না।মস্তিষ্ক যেন কিছু বুঝতে
চাইনা।
- চাচী কি কইতাছ এসব?
- পোড়া কপালি মাইয়া আমার।
কপালে সুখ জুটলো না।
জামাই যৌতুক যৌতুক করে যা ছিল সব
নিছে।তিন মাসের
মাথায় মাইয়া বাড়ি দিয়া গেছে.....
উদ্ভ্রান্তের মত ফিরে চলল ছেলেটা।
আস্তিত্ব
বলে কিছু খুজে পাচ্ছে না সে।সব কিছুই
শুন্য তার।
এক মাত্র আপন বলতে যে ছিল সেও পর
এখন!
নিজের বাড়িটা ফাকা পড়ে আছে।
নোংরা পরিবেশের
কারখানা সেটা এখন।মালিকের
অনুপস্থিতি তার কারণ।
দরজার সামনে পায়রার খাচাটা ঝুলে
আছে এখনো।
টিনের চাল কয়েক জাইগা ফুটা হয়ে
আছে।ময়লার
ভেতরেই ব্যাগ রেখে বসে পড়লো
পাশে...
সন্ধ্যা হয়েছে অনেক আগেই।চারদিক
আধার
নেমে আসার পায়তারা।এদের সাথে
পাল্লা দিতেই
যেন এক ফালি চাঁদ হেসে উঠল
পূর্বাকাশে।ঝিঝি
পোকার কান ঝালা পালা আওয়াজ।
বারান্দার এক
জাইগাতেই বসে আছে প্রহর।নেই কোন
ব্যস্ততা।চারিদিক শুন্য তার।পেপাসায়
গলা শুকিয়ে কাঠ।
উঠানের কলে অনেক চেষ্টা করেও
পানি তোলা
গেল না।ক্ষুদা আবার নেড়েচেড়ে বসল
যেন...
চেনা রাস্তাটা আজ বড্ড অচেনা
লাগছে তার।মনে
হচ্ছে কত দুর পথ শশীর বাড়ির।হ্যাঁ আবার
এসেছে....
বারান্দায় হারিকেনের আলো
টিপটিপ করে
জ্বলছে।একটা নারী মূর্তি বসে আছে
সামনে
গিয়ে দাড়িয়েছে প্রহর।হঠাৎ কারো
উপস্থিতিতেও
বিন্দু মাত্র বিচলিত হল না শশী। যেন
তার জান্যই
অপেক্ষা করছিল সে।
চোখের দিকে তাকিয়ে আছে দুজনেই।
একটু
কেপে উঠলো শশী।বিন্দু বিন্দু ঘাম
জমেছে
প্রহরের।
খুব দুর থেকে বলা হলে যেমন লাগে
তেমনই
শোনা গেল শশীর প্রশ্ন টা...
- ভাল আছ প্রহর?
- আমার কোন দোষ ছিল না....(প্রথম
দিনের
ফোন হারানো থেকে সব বলল প্রহর।)
চুপ আছ কেন শশী? কিছু কও?
- কওনের সব শেষ। চইলা যাও।আর আইসো
না...
- আমার পায়রা টারে দেখিনা।কই
রাখছো?
- বিয়ার দিন ওরে মুক্তি দিছি সেই
সাথে তোমারেও।
- অচেনা শহর আমারে ঠাই দেই নাই।
তুমিও আমারে
ফালাই দিবা?
- তোমারে দেওয়ার কিছুই নাই
আমার.....
- কিছু নাই? তাইলে আমার জন্য কান্দো
কেন? এই
যে চোখের পানি ঝরতেছে এইডা কি?
- এইডা অবুঝ তো তাই ঝরতাছে।তুমি
যাও...! ভুইলা যাও
পারলে.....
অন্ধকার পথে ফিরে চলল ছেলেটা।
হাত দিয়ে
বারবার চোখ মুচছে।জানে পিছে কেউ
আসবে
না আজ।তবুও কিসের আশায় বারবার
পিছু ফিরে
দেখে সে।
মাঝ পথে আবার দাড়িয়ে পড়ল।ঘুরে
চলল আবার....
মেয়েটা এখনো সেখানেই বসে আছে।
উঠানের এ প্রান্ত থেকে বোঝা যায়
মাথা নিচু করে
কাঁদছে সে।
- শশী?
- হু...আবার কি?
- না না ভালবাসি কইতে আসি নাই।
- কি কইবা?
চোখের পানি দু হাত দিয়ে ভাল করে
মুছে
নিয়েছে।হাসি হাসি মুখ করে বলল...
- কিছু খাইতে দিবা? বড্ড খিদা
পাইছে।কাল দুপুরে
খাইছিলাম.....
শশী খুব ভাল করেই জানে চেহারার এই
ভাব টা
প্রহরের কৃত্তিমতা।তবে যেটা বলছে
সেটা সত্য।
মায়ের কাছে প্রহর এসেছে খবর শুনে
তাকে
একনজর দেখার জন্য অস্থির হয়ে ছিল
সে।কিন্তু
আর জন যে দেহ নিয়ে খেলা করছে
তার
প্রহরের কাছে কিভাবে যাবে সে
দেহ নিয়ে।
বারবার এটাই ভেবেছে।অন্যের বাড়ি
কাজ করে মা
বোন কে দেখতে হয় তার।কিভাবে সে
এত কিছু
চিন্তা করবে ? একটা এক্সিডেন্ট সব
শেষ করে
দিয়ে গেল।বাপটাকে নিয়ে গেল
চীরতরে,মা
আর বোন হারিয়েছে স্বাভাবিক
জীবন।
নিজের জন্য রাখা খাবারটা নিয়ে
এল প্রহরের জন্য।
বারান্দায় বসে খাবারে হাত
বাড়িয়েছে প্রহর।কি মনে
করে থেমে গেল আবার।
- এক দিন টিফিন পালায় আমার জন্য
খাবার নিয়ে
আইছিলা,নিজ হাতে আমারে
খাওয়ায় দিছো।আজ
একবার দিবা শশী? আর কোন দিন
চাইতে আসব
না.....
একটু শব্দ করেই কেঁদে উঠলো মেয়েটা।
সাথে সাথে মুখ চাপা দিল।কিছুক্ষন পর
হাত ধুয়ে ভাত
মেখে প্রহরের মুখের সামনে ধরল।
একবার,দু
বার.....
এরপর পানি খেয়ে উঠে পড়ল।খাওয়ার
সময় কিভাবে
কান্না করবে।গলা চোখ এমনিতেই
ব্যাথা করছে।
ভাত যেন নিচে নামে না....
প্রহর চলে যেতে আনমনে বলে উঠলো
শশী সেদিন আমার সাথে তুমিও
আমারে খাইয়ে
দিছিলা প্রহর.....
;
দু দিন পর...
কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়ল
প্রহর।
আকাশে মেঘের ভেলার অবাধ বিচরণ।
সেই সাথে
দমকা বাতাস। চোখেমুখে পানি
ছিটিয়ে বেরিয়ে
পড়েছে।কাঁধে চাপা একটা ব্যাগ।
কাপড়চোপড় ছাড়া
তেমন কিছুই নেই।উঠানের মাঝে
দাড়িয়ে দেখে
নিয়েছে বাড়িটা আর একবার।বুকের
ভেতর টা হুহু
করে উঠছে।কিছুক্ষন পরেই চলে এল
গন্তব্যে.....
ব্যাগের ভেতর থেকে একটা কাগজের
প্যাকেট
বের করে রেখে দিল দরজার সামনে।সব
কাজ
শেষ। এবার মুক্ত মনে চললো অজানার
উদ্দেশ্যে।
;
চারদিকে পাখির কলরবে জেগে
উঠেছে সকাল।
জেগেছে শশী....
কাজের সময় হয়েছে।বেরিয়ে পড়তে
হবে
এখনি।দরজায় প্যাকেট টা দেখে কিছু
সময় থমকে
রইলো শশী।কিছুক্ষন ভেবে খুলে
ফেললো
প্যাকেট টা।প্রথমেই চার ভাজ করা
একটা চিঠি বের
হল সেখান থেকে...
প্রিয় শশী...
সম্বোধন কি দিয়া করা উচিৎ
জানিনা।প্রিয় কইলাম এই
জন্য যে এখনো তোমারে প্রিয় মানুষই
ভাবি।বুক
ভরা আশা নিয়ে আইছিলাম তোমার
কাছে।অচেনা
শহর আমারে জাইগা দেয় নাই।
ভাবছিলাম গ্রামেই
তোমার সাথে একটা ছোট্ট সংসার
করি,হইলো না
তা...।
এই দুইটা দিন আমি কেমনে থাকছি
কইতে পারব না।
বুকের ভেতর টা একদিন যদি দেখাইতে
পারতাম
তোমারে ! চোখের সামনে তোমার
কষ্টটা ও
দেখতে পারিনা।তাই ঠিক করছি ওই
অচেনা শহরের
কাছেই নিজেরে বিলাই দিই।মা
বাপে যে জমিটুকু
আমার জন্য রাইখা গেছিলো সেইডা
বেচতে
গেছিলাম।মন তাতে সাড়া দিল না।
তোমার নামে
লেইখা দিলাম। প্যাকেটের ভিতর
দলিল আছে।আশা
ছিল তোমারে নিয়া থাকি ওইখানে।
সবার আশা তো
আর পুরন হয়না।তাই আমার শুন্য বাড়িতে
তোমারে
নিমন্ত্রণ করলাম।তোমারে লিখলে
সারা রাতেও
শেষ করতে পারব না।অনেক কিছুই কইতে
মন চাই।
কিন্তু চোখের পানি আমার কথা
শোনে না।তাই
একটা কথাই কইতে চাই আর।ভাল
থাকবা...
তোমার প্রহর...
বারান্দার খুঁটিটা ধরে বসে পড়লো
শশী।মাথা ভার
হয়ে আসছে তার।মুখটা দু হাতের তালুর
ভেতএ
ডুবে গেছে।কি হচ্ছে এসব।এমন টা
চাইনি সে.....
টিপটিপ করে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। ধীরে
ধীরে
প্রচন্ড জলধারা নামতে শুরু করছে আকাশ
থেকে।
গ্রাম থেকে বের হওয়ার পথটা শেষ
হয়েছে
নাদীর ঘাটে।এই ভোরে কোন মাঝি
এখনো
আসেনি।মাঝে মধ্যে দু একজন থাকলেও
আজ
প্রতিকুল আবহাওয়ায় নেই কেউ।বিশাল
বটবৃক্ষের
নিচে বসে রইলো প্রহর।বৃষ্টির পানি
ধুয়ে নিয়ে
যাচ্ছে চোখ থেকে নামা ছোট্ট ঝরনা
ধারা।
বাতাসের প্রকোপ আরো বাড়তে
থাকলো।এ
যেন চলবে, আর চলতে থাকবে।দুপুর
প্রায়....
কমে এসেছে বাতাসের গতি।দুএকজন
এবার
চোখে পড়ছে।ঘাটের দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে মতি
কাকা।
- কাকা ওইপারে যাবা?
- হ যাব।তয় দেরি কর আর দু একজন হইলে
নিয়ে
যাই।
- এই ঝড় বাদলে কারে নিবা আর!
- একটু দেহি কেউ আসে কি না! তোর
তো ঠান্ডা
লাগবে। জামা কাপড় ভিজা দেহি...
- কিছু হইব না।তুমি নৌকা ঠিক কর। যে
বাতাস হইলো
জঞ্জালে দেখ ভইরা গেছে...
মতি কাকা নৌকার দিকে পা
বাড়িয়ে চললো।মতি কাকার
পিছু নেয়ার জন্য উঠে দাড়িয়েছে
প্রহর।পেছনে
পদশব্দে ঘুরে তাকালো ছেলেটা।
মূর্তির মত
কতক্ষন তাকিয়ে থাকলো সে।
- কই যাচ্ছো?
- তুমি এদিকে কই যাবা?
- আমি আগে জানবার চাইছি প্রহর কই
যাও?
গলার আওয়াজ প্রথমের চেয়ে কিছুটা
বেড়ে
গেছে শশীর।
- সঠিক উত্তর জানা নেই।তবে
যেখানেই যাব ভাল
থাকব।
- কেমনে কইতেছ ভাল থাকবা?
- গ্রামের মানুষগুলার কষ্ট দেখতে হইব
না তাই...
- গ্রামের মানুষগুলার তখন আরো বেশি
কষ্ট হইব
তুমি গেলে।
- এক সময় আবার ভুলে যাবা।তখন ঠিক
হয়ে যাবে...
- কোথাও যাবা না তুমি....
> এ প্রহর নৌকা ছাড়ব,আইসা পড়...
প্রহর কিছু বলার আগে শশী বলে উঠলো...
- ও যাবে না কাকা তুমি যাও...
- না কাকা থাম আইতেছি আমি....
তখনি হাত আকড়ে ধরলো শশী।
- একবার হারায়ছি তোমারে।আর
হারাইতে চাই না
প্রহর।বড্ড ভালবাসি যে তোমারে।
মুহুর্তেই বিগলিত হয়ে গেল প্রহর।ওই
চোখের
পানি দেখার মত সহ্য বা ক্ষমতা
কোনটাই তার নেই।
ফিরে পাওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি
করে নিয়েছে দুজন।
প্রহরের দু বাহুর মাঝে নিজেকে শপে
দিল
শশী। কিছুক্ষন পরেই সাড়া দিল প্রহর।
শশীর
নিমন্ত্রণ গ্রহন করে জড়িয়ে নিল
তাকে......
ফিরে চলল আবার গ্রামের পথে।
টিপটিপ বৃষ্টিতে দুজন দুজনের হাত ধরে হেটে চলেছে
নতুন জীবনের পথে।

 এই,এই...প্লীজ উঠোনা লক্ষিটি...এই উঠো

এই,এই...প্লীজ উঠোনা লক্ষিটি...এই উঠো


এতক্ষণ তুর্য দেখছিল ওর বস ওর দিকে এতগুলা ফাইল ছুঁড়ে মেরেছেন। কিন্তু তার পর পরই বস হঠাৎ মেয়েদের আওয়াজে কথা বলছেন দেখে পেট ফেটে হাসি এল তুর্যের...তার উপর আবার কি অদ্ভুদ সম্ভাষণ...
''তুর্য ,এই তুর্য...১০ সেকেন্ডে না উঠলে কিন্তু গায়ে পানি ঢেলে দিব আমি।'' চোখ মিটমিট করলো তুর্য। সামনে একটা হাসি হাসি মুখ দেখা যাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারলনা কোথায় আছে...ভালো মতো তাকাতেই বুঝতে পারল সামনের হাসি হাসি মুখ টা কার। তারমানে স্বপ্ন দেখছিল? যাক বাবা বেচে গেলাম ভেবে আবার চোখ বুজে ফেলল তুর্য। আবার ওর কাঁধ ঝাঁকাল নিঝুম 'প্লীজ,আমি এখন ঘুমাব...কালকে অফিস আছে''তুর্য মিনমিন করে বলতে চেষ্টা করলো ''আধ ঘণ্টার জন্য ঘুম ভাংলে কিচ্ছু হয়না...দেখি এখন উঠ...নাহলে কিন্তু আমি পানি আনতে গেলাম'' এবার বিনা বাক্যব্যয়ে তুর্য উঠে বসলো। নিঝুমের পক্ষে সব সম্ভব। আরেকবার রাত দুপুরে এরকম না ওঠায় নিঝুম ওর গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছিলো। ব্যাপারটা মনে করেই ঠাণ্ডায় ওর গা কেপে উঠল। ''মুখটা একটু ধুয়ে আসো...নাহয় আবার ঘুমায় যাবা।'' বাধ্য ছেলের মতো তুর্য বাথরুমে গেলো। বের হয়ে দেখে যে টেবিলের উপর একটা ট্রেতে দুটো মগ রাখা।এরপর তাকাল দেয়াল ঘড়ির দিকে। রাত দুইটা বাজে।দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে এল আপনা আপনি। রাত দুপুরে কেন যে নিঝুম এমন পাগলামি করে! বারান্দাতে টুকটাক আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আজকে কি জোছনা নাকি? নিঝুমের আওয়াজ শোনা গেলো
''তুমি বের হয়েছ? একটু কষ্ট করে ট্রেটা নিয়ে এসোনা প্লীজ...''
''আনছি''
বারান্দায় ঢুকে দেখল এক কোনায় মাদুর বিছানো। তার উপর নিঝুম বসে আছে। চাদের আলো নিঝুমের মুখের উপর এসে পড়ছে। এতো স্নিগ্ধ দৃশ্য দেখে কারো মনে কি আর রাগ থাকতে পারে? এম্নিতেই তুর্য নিঝুমের উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারেনা। এত মায়া মেয়েটার মাঝে! ও নিঝুমের পাশে গিয়ে বসলো।
''খুব রাগ করেছ আমার উপর?'' হাসি হাসি মুখে জানতে চাইল নিঝুম
''করেছিলাম,কিন্তু এখন আর রাগ নেই''
''হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার। তখন বাইরে দেখি কি সুন্দর আকাশ। একা একা দেখতে ভালো লাগবেনা। তাই তোমাকে ডাকলাম '''
হাসল তুর্য ''ভালো করেছ''
হাত বাড়িয়ে কফির মগ টা নিঝুমের হাতে দিল। ওর আসলেই ভালো লাগছে পরিবেশটা। কেমন যেন অন্য জগতের বাসিন্দা মনে হচ্ছে নিজেদের। নিঝুম শক্ত করে তুর্যের হাত ধরে রেখেছে। যেন ছেড়ে দিলে আর তুর্যকে খুজে পাবেনা। আহ! তুর্যের মনে হচ্ছে এই সময়টাকে যদি এখানে আটকে রাখা যেত!! অফিসে বসে ফাইল চেক করছিল তুর্য। লাঞ্চ টাইম হয়ে এসেছে। এই ফাইলটা শেষ করেই খেতে যাবে। এমন সময় মেসেজ এল। নিঝুমের লেখা। দেখেই তুর্যের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুতে উঠল। মেসেজে লিখা
''একা ঘরে বসে আমি ভাবছি শুধু তোমায় তুমি আমার ঘরের বাতি আঁধারও তাই পালায়''
সাথে সাথে আরেকটা মেসেজ ''জলদি খেয়ে নাও'' লেখা।
প্রায় নিঝুম এই কাজ করে। ছোট ছোট ছড়া লিখে পাঠায়। রাগ করলেও ছড়াই লিখে। অনেক যত্ন করে তুর্য ওর মোবাইলে মেসেজ গুলো রেখে দিয়েছে। তুর্য রিপ্লাই দিল
''তোমাকে অনেক ভালবাসি''
এরপর আরেকটা দিল ''খেতে যাচ্ছি,তুমিও খেয়ে নাও''
এসব ছেলেমানুষি করার কথা তুর্য আগে কখনও ভাবতেও পারেনি। কিন্তু এখন এই কাজগুলো করে ও অনেক আনন্দ পায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল নিঝুম কখনও একটা গিফট পেয়ে এত খুশী হয়না যতটা না একটা মেসেজ বা একটা গোলাপ পেয়ে হয়। নিঝুমের মতো একটা মেয়ে তার মতো ছেলের ভাগ্যে কিভাবে জুটল এটা ভাবতেই তুর্যের অবাক লাগে। যেদিন নিঝুম কে প্রথম দেখতে গিয়েছিল সেদিনের কথা মনে পড়লে এত ভালো লাগে ওর! একান্তে কথা বলার জন্য যখন ওদের কে সুযোগ দেয়া হয় তখন নিঝুমের প্রথম প্রশ্ন ছিল
''আপনি কি চোখে কম দেখেন?'' তুর্য অবাক হয়ে বলেছিল ''
কেন? আমার চোখ তো ঠিক আছে।''
''ঠিক থাকলে আমাকে কেন পছন্দ করলেন?''
''এটা কোন ধরনের প্রশ্ন?'
''আমি তো দেখতে ভালো না। বেশির ভাগ ছেলেই আমার ছবি দেখেই না করে দেয়''
''আমার তো মনে হয় ওই ছেলেগুলোরই চোখ খারাপ''
ফিক করে হেসে দিলো নিঝুম। হাসলে ওর গালে টোল পড়ে। এই হাসি দেখেই নিঝুমের প্রেমে পড়ে গেলো তুর্য।
''প্রহর শেষে আলোয় রাঙ্গা সেদিন চৈত্র মাস তোমার টোলে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ''
বাসায় এসে সবাইকে জানিয়ে দিল তুর্য,এই মেয়েকেই বিয়ে করবে সে। চারটা বাজে। এখনি তুর্য অফিস থেকে বের হবে। নিঝুম বারবার কল দিচ্ছে। তাড়াহুড়ো করে বেরোতে গিয়ে অফিসের দরজায় একটা বাড়িও খেল তুর্য। নিচে নেমে গাড়ির স্টার্ট করতে যাবে তখনি আবার কল আসলো। নিঝুম।
''হ্যাঁ আমি আসছি,১০ মিনিট ওয়েট করো।''
''গাড়ি থেকে নেমে বাইরে এসো।''
''কেন?''
''আমি বাইরে রিকশা নিয়ে এসেছি,আজকে রিকশায় ঘুরবো''
''এখন?''
''জী এখন''
তুর্য নেমে আসলো। বাইরে সত্যি নিঝুম রিকশাতে বসে আছে। মুখে সেই চির চেনা টোল পড়া হাসি। রিকশাতে উঠে বসলো তুর্য। ওর কি রাগ করা উচিত বুঝতে পারছেনা। এই মুহূর্তে কি নিঝুম এসব না করলে হয়না? নিঝুম মনে হয় তুর্যের চেহারা দেখে আন্দাজ করতে পেরেছে।
''খুব জ্বালাই তোমাকে,না?''
কিছু বলল না তুর্য। ও ঠিক করলো আজ নিঝুমের কোনও কথার জবাব দিবেনা।
''এই শোন,রাগ করেছো ভালো কথা। কপাল কুঁচকাও কেন? মনে হচ্ছে ৬০ বছরের বুড়ো লোকের পাশে বসে আছি।আমি যতদূর জানি তোমার এত বয়স হয়নাই। নাকি বিয়ের সময়ে মিথ্যা বলেছিলে?''
তুর্য মুখ শক্ত করে অন্য দিকে আছে, এই মুহূর্তে ওর একটাই চিন্তা কিভাবে ওর পাশে বসা ফাজিল মেয়েটার কথা না শোনা যায়। কারন অলরেডি ওর হাসি পাচ্ছে। আচ্ছা মুশকিল হল দেখি।
''দেখি তো,তোমার দাঁত দেখি... আসলই তো মনে হয়...এই তোমার চুল গুলা কি নকল?'' বলে তুর্যের চুল ধরে হাল্কা টান দিল নিঝুম। তুর্য কটমট করে তাকাতেই বলল
''নাহ, একদম আসল দেখি। আমার তো মনে হচ্ছিল তুমি কিছু করেছো। ওই যে একটা চুলের বিজ্ঞ্যাপন আছেনা? ''টাক সমস্যার তাক লাগানো সমাধান'' ওইটার মতো''
তুর্য আর পারলনা... হোহো করে হেসে উঠল। নিঝুমের সাথে রাগ করে থাকা একদমই অসম্ভব।
''তুমি আসলেই একটা চীজ'' নিঝুম ও তুর্যের সাথে সাথে হাসছে। এত সুন্দর হাসি মেয়েটার! বিয়ের পর এত দিন হয়ে গেলো তারপর ও তুর্য নিঝুমের হাসি যতবার শুনে মনে হয় প্রথমবারের মতো শুনছে। এটা কি শুধু ওর সাথেই হয়?
''কি দেখছ এভাবে?''
''তোমার হাসি''
নিঝুম একটু লজ্জা পেয়ে যায়।
''আমি চাই আমার মেয়ে তোমার মতই হাসবে,টোল পড়া হাসি''
''ছেলেও তো হতে পারে''
''তা পারে। কিন্তু আমি চাই আমার লাইফে আরেকটা ছোট্ট নিঝুম আসুক''
নিঝুম কিছু না বলে তুর্যের হাত ধরল। ওর এই কাজটার মানে তুর্য এখন বুঝে। খুব আবেগপ্রবন হয়ে গেলে নিঝুম কথা বলতে পারে না।শুধু তুর্যের হাত ধরে রাখে। এই একটা সময়ে ''নিঝুম'' নামের সাথে নিঝুমের সাথে মিল পাওয়া যায়। তুর্য বুঝতে পারে নিঝুম ওকে প্রচণ্ড ভালবাসে। ঠিক যেমন ও নিঝুম কে। ''একটু সমস্যা হয়েছে,আপনি কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন, ডাক্তার আসছেন।'' এ কথা বলেই নার্স দ্রুত চলে গেলো। তুর্য বুঝতে পারলনা প্রথমে। কি ধরনের প্রবলেম? নিঝুমের ডেলিভারি তে কোনও জটিলতা আসার কথা না। ওরা ডেইলি চেক আপ করেছে। তখন তো বাচ্চার কন্ডিশন ভালই ছিল। অস্থিরভাবে পায়চারি করছে তুর্য। অনেক বেশি টেনশন হচ্ছে। ওরা দুজন ঠিক আছে তো? দু রাকআত নফল নামাজ পড়ে আসবে কি? খুব কান্না পাচ্ছে তুর্যর। কেন জানে না।
''এই তুর্য,চেহারা এমন করে রেখেছিস কেন?'' শাওন পাশে এসে দাঁড়াল। তুর্যের খুব কাছের বন্ধু শাওন।
''দোস্ত,নিঝুমের কিছু হবে নাতো? ওর কিছু হলে আমি বাচবোনা''
''আজব তো,তোকে একথা কে বলেছে? ভাবি ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না...আরে বাবা কাঁদছিস কেন মেয়েদের মতো?''
তুর্য কোনও কথা বলল না। ওর শুধু ইচ্ছে হচ্ছে নিঝুমের পাশে ওর হাত ধরে বসে থাকতে। নিঝুম কে বলতে যে তুর্য ওকে কতটা ভালবাসে।
''আল্লাহ পাক,আমার নিঝুমকে ঠিক করে দাও। আমি আর কিছু চাইনা। শুধু নিঝুমের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়''
মনে মনে তুর্য দোআ পরেই যাচ্ছে। ডাক্তার কে বের হতে দেখে তুর্য জলদি হেঁটে গেলো সামনে। ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় তুর্য কিছু বলতে পারলনা। চেহারা দেখে বোধহয় ডাক্তার বুঝে নিলেন তুর্যের অস্থিরতা...তুর্যের হাত ধরে বললেন ''dont worry youngman,তোমার ওয়াইফ একদম ঠিক আছে। একটু দুর্বলতা ছিল প্রথমে। but she pulled up...আর তোমার পুত্র সন্তান হয়েছে। he is in perfect and healthy condition....congratulations'' তুর্য কোনও কথা বলল না। ওর চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু ঝরছে। তবে কিছুক্ষণ আগে যা ছিল অনিশ্চয়তার,এখন তা হল আনন্দের। তোয়ালের মধ্যে পেঁচিয়ে একটা ছোট পুতুল কে তুর্যের কোলে দেয়া হয়েছে। এত নরম শরীর যে তুর্যের ভয় লাগছে কোলে নিতে। সে অনেক সাবধানে কোলে নিয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকাল। আর অভিভূত হয়ে গেলো।এটা ওর ছেলে! বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। ওর নিজের অংশ!!! ও একবার ছেলের দিকে আর একবার নিঝুমের দিকে তাকাচ্ছে। নিঝুম বেডে শুয়ে আছে। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। ওর এখন বিস্রাম দরকার। কিন্তু বাবা আর ছেলের প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্তটা যাতে মিস না করে তাই সে অনেক কষ্টে জেগে আছে।
''কি? নিজেকে বাবা বাবা লাগছে?''
তুর্য লাজুক হাসি দিল।''ও দেখতে একদম তোমার মতো হয়েছে।''
''উঁহু,তোমার মতো''
''আমি ওকে কি ডাকব জানো? সূর্য'...তুর্য পুত্র সূর্য''
তুর্যের মনে হয় নামটা বেশ পছন্দ হল। বেশ কয়েকবার আপন মনে সূর্য বলল সে। এরপর এক হাতে সূর্য কে রেখে খুব সাবধানে অন্য হাত নিঝুমের মাথায় রাখল।
''এখন ঘুমাওতো সূর্যের আম্মু,আমি পাশেই আছি''
''জানি'' মিষ্টি হাসি দিল নিঝুম। এত ধকলের পরও নিঝুমের হাসি অমলিন রয়ে গেছে। তুর্যের হাত টা নিজের হাতে নিল সে। শক্ত করে ধরে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলল। পরম নির্ভরতার সাথে ঘুমের অতল গহ্বরে হারিয়ে যেতে যেতে নিঝুম অনুভব করলো যে ও একা নয়। দুজন মানুষঅধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওর জন্য। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার বিকেলে তুর্যকে জলদি বাসায় ফিরতে হয়। নিঝুমের কড়া আদেশ। এর হেরফের হতে পারবেনা।এদিন ওদের রিকশা ভ্রমনের দিন।তুর্য অনেক নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ত পালন করে। রিকশায় ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে প্রায় ওর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। নিঝুম অনেক মজা পায় এসব দেখে আর সূর্যকে বলে'' দেখলে আব্বু,তোমার বাবা কিচ্ছু জানে না'' সূর্য তখন প্রবল বেগে মাথা নাড়ে। ওর বাবা সব জানে। আর তুর্য বলে ''ছেলে আমার সবই জানে, তাইতো শুধু বাবার কথাই মানে'' মা আর ছেলের হাসি তখন দেখে কে। সূর্য হাসলে বাঁ গালে একটা টোল পড়ে,ঠিক নিঝুমের মতো।

Friday, August 31, 2018

এ্ই  কেমন ভালোবাসা, যা শুধু কষ্ট

এ্ই কেমন ভালোবাসা, যা শুধু কষ্ট


আসুন সবাই ৫মিনিট সময় নিয়ে গল্পটি পড়ি,,,,,,,,   ↕↕↕↕↕↕↕ আজব গল্প,একটি ছেলে আর,,একটি মেয়ের।চলেন শুনি--,,, ছেলেটি রমজান মাসে ইফতার সেরে পড়তে বসে, এমন সময় একটি মেয়ে তাকে ফোন করে।তার পর মেযেটি,, বলে কে, ছেলেটি বলে আপনি কে,মেয়েটি আবার বলে, আপনি কে,ছেলেটি রাগ হয়ে বলে,,আমি এক মাদার চুদ।আপনি কে, মেয়েটি ফোন কেটে দেয়।তারপর মেয়েটি আবার ফোন করে ,ছেলেটি বলে নাম্বার কই পাইছেন ।মেয়েটি বলে পিকছারে, ছেলেটি বলে ঠিক আছে । ছেলেটি বলে ফোন কেন ও করছেন, মেয়েটি বলে এমনি, এরপর ফোন কেটে দিল।এরপর মেয়েটি মেসেজ করল,ছেলেটি উওর দিল। এভাবে কিছু দিন যাচ্ছে,তারপর মোবাইলে কথা বলা শুরু । এর মধ্যে চলে আসল ঈদ্, এরপর মেয়েটি ছেলেটির সাথে দেখা করল।তারপর তাদের মাঝে প্রেম শুরু হয,একজন অপরজন কে ভালোবাসে ।মেয়েটি ছেলেটি কে কিছু র্শত দেয়।ছেলেটি মেয়েটির সকল র্শত মেনে নেয় । এবং মেয়েটি কে খুব ভালোবাসে,ছেলেটি গারমেন্স এই চাকুরী করত, এবং লেখা পড়া করত। মেয়েটি কে খুব ভালোবাসত, মেয়েটির র্শত পুূরণ করতে গিয়ে, ছেলেটি অনেক বিপদে পড়ে, তার কাছে টাকা থাকত না, ধার করে ছেলেটি মেয়েটির ইচ্ছা পূরণ করত, একদিন মেয়েটির ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে ছেলেটি পুলিশের তাড়া খায় । ছেলেটি মেয়েটি কে পাগলের মত ভালোবাসত। আর মেয়েটি ছেলেটির দুর্বলতার সুযোগ নিল । ছেলেটি ছিল,,মেয়েটির জন্যে, এক দরনের পাগল।ছেলেটির জীবনের প্রথম প্রেম ,তাও আবার রং নাম্বারে। এবার শুধু কষ্ট, মেয়েটি যখন যে জায়গা, ছেলেটি কে আসতে বলত,এবং যা খেতে চাইতো তাই খাওয়াত ,টাকা না থাকলে ধার করত। একদিন ছেলেটি অসুস্থ ,,এমন সময় মেয়েটি বলে তার নাকের ও মাথাায় সমস্যা,তারাতাড়ি ৫ হাজার টাকা লাগবে। ছেলেটির কাছে টাকা নাই ,মাস শেষ, তারপর ছেলেটি ৩হাজার টাকা, ‍শুধের উপর নিয়ে মেয়েটি কে দেয়। অতছ ছেলেটি নিজেেই অসুস্থ। তারপর ছেলেটির পরীক্ষা চলে আসে । চাকুরী ছেড়ে পড়া শুনা শুরু করে ।মেয়েটা কে বলে আগের মত বেশি কথা বলতে পারব না সামনে পরীক্ষা ।তাও প্রতিদিন যে টুকু সময় পায় সে কথা বলে।মেয়েটি মোবাইলে প্রায় ব্যস্ত থাকত, ছেলেটি বলত কার সাথে এত কথা বল, মেয়ে বলত আত্তৃীয় স্বজনদের সাথে।ছেলেটির মনের সন্দহে, সে নেটে অ্যাপস দিয়ে মেয়েটির নাম্বার চেক করল। এবং তার সন্দহ সঠিক হলো ,পরে সে মেয়েটি জ্ঞিাগাসা করল মেয়েটা মিথ্যা কথা বলে।ছেলে বলে 01..........84 এই নাম্বার ও 01....402 এবং01.....4002 একজনের নাম্বার । কে এই ছেলে , মেয়ে বলে তুমি মিথ্যা কথা বলে। তারপর ছেলেটি ঐ নাম্বার শুলুতে কল দেয় । এবং ঐ ছেলে কে বলল 019.....54 এই নাম্বারে কথা বললেন ,ফারজানা আপনার কি হয় ছেলেটি অস্বীকার করল এবং এই ছেলেটি বলল আপনার বাড়ি কই্। তারপর মেয়েটি ,ছেলেটি কে ফোন করে এবং খারাপ কথায়, কথা বলে । এবং বলে 01......84 এই নাম্বারে কল দিয়ে বাড়ী কিনবি হুমকি দেস। ছেলেটি বলল আমি এই ধরনের কথা বলিনি তো।এভাবে দুজনে মধ্যে ফাটল ধরল ।অতছ মিথ্যা বলছে ঐ ছেলে , কিন্তু মেয়েটি তাকে ভুল বুঝে। তারপর মেয়েটি ঐ ছেলে কে নিয়ে ভালাে আনন্দ আছে, আর এই পাগল প্রেমিক শুধু মেয়েটা কে ফোন করে ।কিন্তু ঐ মেয়ে তাকে কুকুর ভেবে শুধুু অপমান করে। এমন কোনো রাত নেই যে, এই ছেলে কাদে না,, তার সকালের ঘুম ভাঙ্গে কান্না দিয়ে।এমন কোনো রাত নেই যে ঘুমের ঔষধ খায় না ।তবুও তার ঘুম হয় না<হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে যায়>তার মাথার সমস্যা হয়,,,,, সে ১৫ দিন মেডিকেল থাকে। তারপরও, শুধু তাকে ভাবে,একদিন সে ফারজানার কাছে ফোন করল এবং বলল ,ফারজানা আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। কিন্তু মেয়েটি তাকে কোনো মূল্য দিল না। এরপর ছেলেটির পরীক্ষার জন্য, অনেক টাকা প্রয়োজন ,,সে আবার ফারজানার কাছে ফোন দেয় এবং ২ হাজার টাকা ধার চায়।কিন্তু মেয়ে বলে আমি তোমাকে চিনি না????তারপর ছেলেটি অনেক কষ্ট করে টাকার মিল করল। কিন্তুু সে আর পরীক্ষা দিল না?????? এখন ও শুধু তাকে ভালোবাসে। মেয়েটি জানত ছেলেটি খু্বই অসহায় এই পৃথিবীতে ছেলেটি খুবএকা                গল্পটি সবাই শেয়ার করবেন এবং লাইক, কমেন্ট করবেন                                                      সবাই কে ধন্যবাদ                                                      


https://akashbksf24.blogspot.com/

Friday, July 6, 2018

ভালো লাগা ও ভালোসার মত একটি গান

ভালো লাগা ও ভালোসার মত একটি গান

                                                                   সুন্দর  একটা  গান                                                                     সময় যখন মরুর ঝড়ে, এ মন হারায় কেমন করে, আমি তখন যোজন দূরে একাকি সঙ্গি মৌনতা /
আকাশ যখন আঁধার ভীষণ, এক ফোঁটা জল চেয়েছে মন, অবহেলায় অপমানে পেয়েছে রিক্ত শুন্যতা
/

সমান্তরাল পথের বাকে, তোমার পথের দিশা থাকে, সে দিশা খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা …
গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে, তোমার ছোঁয়া মিশে থাকে, সে ছোঁয়া খোঁজে তোমাকে দীপান্বিতা…
তুমি নীলাকাশ আপন করেছো
হঠাৎ কোন কালে কে জানে!
স্বপ্ন সীমানা ছুঁয়ে দিয়েছ
কোন সে জাদুতে কে জানে!
আমি ছিলাম তোমার পাশে, তোমার আকাশ ভালবেসে, সে বিশালে খুঁজেছি একটুকু ঠাই, তাও মেলেনি তা/
হঠাৎ যখন ছুটির খেলা, মেঘে মেঘে অনেক বেলা, তখন সে ক্রান্তিকালে ধুম্রজালে খুঁজছ যে বৃথা/
অশান্ত মন বোঝাই কাকে, হারিয়ে চাইছি তোমাকে, হাতছানি দিয়ে
যে ডাকে সৃতির পাতা…
নদির শেষে আকাশ নীলে, স্বপ্নগুলো মেলে দিলে, তারা বলে সবাই মিলে,
দীপান্বিতা…
শোননা রূপসী, তুমি যে শ্রেয়সী, কি ভীষণ উদাসি,
প্রেয়সী।
জীবনের গলিতে, এ গানের কলিতে, চাইছি বলিতে,
ভালবাসি।
চোখের জলেরই আড়ালে, খেলা শুধুই দেখেছিলে, যন্ত্রণারই আগুন নীলে,
পুড়েছি যে-বোঝনি তা/
অভিমানে চুপটি করে, এসেছি তাই দূরে সরে, বোঝাতে চেয়েও পারিনি তাই বোঝাতে- লুকোনো কথা/
ইটপাথরের এ শহরে, গাড়ি বাড়ির এ বহরে, খুজছে এ মন ভীষণ করে
দীপান্বিতা…
জীবন যখন থমকে দাড়ায়, স্বপ্নগুলো দৃষ্টি ছাড়ায়, তৃষ্ণা বুকের বৃষ্টি হারায়
দীপান্বিতা…
কল্পনারই আকাশ জুড়ে, নানা রঙে লোকের ভিড়ে, দুচোখ বুজেও স্বপ্ননীড়ে
দীপান্বিতা…
তুমি আমার চোখের ভাষা, তুমি আমার সুখের নেশা,তুমি আমার ভালবাসা
দীপান্বিতা……।।
                                       

Thursday, April 19, 2018

আমার স্ত্রীর নাম আকিফা। সে বাংলাদেশী নয়, এক পাকিস্তানী মেয়ে।

আমার স্ত্রীর নাম আকিফা। সে বাংলাদেশী নয়, এক পাকিস্তানী মেয়ে।


আমার স্ত্রীর নাম আকিফা। সে বাংলাদেশী নয়, এক পাকিস্তানী মেয়ে। ঠিকমত বাংলা ভাষাও জানেনা, আধোকাচা বাংলা বলার চেষ্টা করে কিন্তু উচ্চারণ সঠিক হয়না। আমিও তাকে বাংলা ভাষা শেখানোর জন্য তেমন চেষ্টা করিনি। সর্বদা ইংরেজি কিংবা উর্দুতেই তার সাথে কথা বলি। আমি নিউজিল্যান্ড আসার ৭ বছর পর তার সাথে আমার পরিচয় হয়, আমার দুঃসময় সে আমার পাশে এমন ভাবে ছিলো যেন কোন চুম্বকীয় শক্তির টানে লোহা তার সংগে থাকে। আজকাল তার বায়না বাংলাদেশে আসবে। এ দেশের মানুষ দেখবে। কিন্তু আমার মোটেও দেশে আসার ইচ্ছানেই। যেদিন আমি দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পাড়ি জমাই, সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কখনো দেশে আসবো না। কিন্তু আকিফা এত বেশী জোর করছিলো যে আমার ১০ বছর আগে নেওয়া প্রতিজ্ঞা ভেংগে দেশে আসার জন্য রাজি হতে হলো। আকিফা তার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আর জামা কাপড় প্যাক করছে। আজ মেয়েটিকে বড্ড সুখী মানুষ মনে হচ্ছে। তার কারন গত দুবছর ধরে সে যে বায়না ধরেছিলো আজ গিয়ে তা বাস্তব হতে চললো। আমি তাকে নিয়ে আজ রাতে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে যাবো। আমি যে দেশকে ঘৃনা করি এমনটা না, যে দেশে আমার জন্ম, যে দেশের মাটি, পানির কাদায় মাখামাখি আমার ছোটবেলা। যে মায়ের বুলিতে আমি আজ কথাবলি সে দেশকে ঘৃনা করার মত দেশদ্রোহী আমি নই। কিন্তু দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এক অভিমান রয়েছে বড্ড অভিমান। তাই দেশে ফিরতে চাইনি। তাছাড়া দেশে আমার কেউ নেই, বাবা মা গত হয়েছে অনেক বছর হলো। দুইবোন ছিলো তারা আজ কোথায় আছে তাও জানিনা। আমি যখন দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ড এ আসি তখন তারা জর্ডান এ থাকতো। কমিউনিকেশন না হবার কারনে তাদের খবর এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা। কিন্তু তারা হয়ত এখন বাংলাদেশেই আছে, এটা আমার বিশ্বাস। আমি যখন দেশের ভাবনায় বুদ হয়ে রইলাম, আকিফা আমার কাধে হাত রেখে বললো, "হোয়াট ইউ থিংক"। আমি কিছুক্ষন তাকে দেখে নিলাম, গত বছর ঈদের সময় যে নীলশাড়ি তাকে দিয়েছিলাম তা পড়েছে, লম্বা করে কাজল দিয়েছে চোখে, চুলগুলো বিদেশী স্ট্যাইলে খোপা করেছে, কানে লম্বা ঝুমকা, হাতে একগোছা চুড়ি সব মিলিয়ে আজ আকিফাকে কেন যেন আমার অপ্সরা মনে হলো। যদিও আমি কখনো আকিফাকে সরাসরি প্রশংসা করিনি, তারপরেও আজ কেন জানি তার প্রশংসা করতে ইচ্ছে করছিলো খুব। কিন্তু আমি তা করলাম না, ড্যাবড্যাব করে তার রুপ দর্শন করতে লাগলাম। তার প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সে আবার বলে উঠলো, "এনি প্রবলেম"। আমি আমার ধ্যান থেকে বের হয়ে আসলাম, আর তাকে বলতে লাগলাম "নাহ কোন সমস্যা না তোমার প্যাকিং শেষ?" সে মুচকি এক হাসি ঠোটে এনে শুধু হ্যা বললো। তার এই হাসিটা আমাকে বড্ড জ্বালা দেয়, যতবার তার এই মুচকি হাসি দেখি ততবার আমার কোন এক নারীর কথা মনে পড়ে যায়। মাঝে মাঝে মনে হয় আকিফার এই হাসির মধ্যেই সেই নারী লুকিয়ে আছে, যে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও আকিফার হাসি হয়ে আমার সাথে আছে। আকিফা আবার গায়ে হালকা ধাক্কা দিলো, আজকাল আমি বার বার ভাবনার জগতে হারিয়ে যাই। অনেক বছর আগে ফেলে রাখা আমার সে অতিত আমাকে বার বার তাড়া করে বেড়ায়। আকিফার ধাক্কাতে আমি একটু স্বাভাবিক হবার ভান করলাম, আর বলতে লাগলাম, "তুমি একবার সব কিছু দেখে নাও, আমি টেক্সিকে ফোন করে জেনে নেই সে কোথায় আছে।" আকিফা হয়ত আমার এই লুকোচুরির বাহানা বুঝে ফেলেছিলো, খানিকটা হতাশ হয়ে শুধু মাথা নাড়িয়ে আমাকে হ্যা সুচক ইংগিত দিলো। আমি সেখানে না দাঁড়িয়ে চলে আসলাম বাসার নিচে। ইতিমধ্যে টেক্সি চলে এসেছে। আকিফা সমস্ত ব্যাগ নিয়ে নিচে নেমে আসলো, ট্যাক্সির পেছনে সমস্ত ব্যাগ রেখে আমরা দুজন উঠে বসলাম। ট্যাক্সি নিউজিল্যান্ড এর অলিগলি সড়ক পেড়িয়ে হাইওয়ে দিয়ে এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছে। পুরো ট্যাক্সিতে আকিফা আমার সাথে কোন কথা বলেনি, এয়ারপোর্ট এ আসার পরেও কথা বলেনি। যখন আমরা ইমিগ্রেশন পার হয়ে ওয়েটিংরুম এ অপেক্ষা করছি নির্দিষ্ট সময় হবার তখন সে বলতে লাগলো, "মুঝে পাতা নেহি, তুমহারে দিলমে কোনসা দারদ ছুপা হে। লেকিন মুঝে এ জরুর পাতা হে, তুম হার সুভা কইনা কই দারদ লেকে জাগতে হো। মে তুমহারা বিবি হু, মুঝে কিউ নেহি বাতাতে হো, তুমহারে দিলকি বাত? মুঝে কা ইতনা বি হক নেহিহে, মে তুমহারা দারদ ভুলানে কি দাওয়া বানজাও?" আকিফার কথা শুনে আমি তার দিকে তাকালাম। তার চোখে পানি ছলছল করছে। মেয়েটি আমাকে এত ভালোবাসা দিয়েছিলো যে আমি সাত জনম নিলেও এত ভালোবাসা পেতাম না। কিন্তু আমি তাকে ঠকিয়েছে প্রতিটি কদমে কদমে। আমার ঘরে আকিফা বাস করলেও আমার মনে অন্যকেউ বাস করে যা আমি এক নিখুঁত অভিনেতার মত অভিনয় করে তার থেকে আড়াল করে রেখেছি। এতদিন আকিফার সাথে সংসার করে এটুকু তো বুঝে গিয়েছি, তারমত ভালো পৃথিবীর দ্বিতীয় কোন নারী আমাকে বাসতে পারবে না। আমি আকিফাকে কাছে টেনে নিলাম, সে ছোট বাচ্চাদের মত আমার কাধে মাথা হেলিয়ে দিলো। তার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললাম "সব কথা বলবো, আগে দেশে যাবো তারপর।" আকিফা হঠাৎ করেই আদুরী স্বভাবের হয়ে উঠলো, মাথা তুলে আমার গালে আর কপালে চুমু দিতে লাগলো। দুহাতে শক্ত করে আমাকে জরিয়ে ধরলো। এরই মধ্যে মাইকিং এ এলাউন্স হতে লাগলো, নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে যাবার উড়োজাহাজ এ উঠার জন্য। আমি আর আকিফা ওয়েটিংরুম থেকে বের হয়ে উড়োজাহাজ এ উঠে বসলাম।

পুরো একদিনের সফর পেড়িয়ে, আমি আর আকিফা শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এ এসে পৌছেছি। বিমান বন্দরের বাহিরে এসে আমি আকিফাকে জিজ্ঞেস করলাম "কোথায় যাবে এখন" সে মুচকি হাসি দিয়ে বললো, তোমার গ্রামের বাড়ি। আমি মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিলাম। তারপর গাবতলী এসে আমরা খাওয়া দাওয়া করলাম। বাসের টিকেট নিয়ে মাদারীপুর এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। এখনো আমার বাড়ি যেতে ৬ ঘন্টার সফর পাড়ি দিতে হবে। সাড়াটি পথে আকিফা আমার কাধে মাথা রেখে দেশের প্রকৃতি উপভোগ করেছে, আমিও খুব গভীর মনোযোগী হয়ে আমার ফেলে আসা সেই দিনগুলোর স্মৃতির প্রেক্ষাপট ভেবে যাচ্ছি। মাদারীপুর শহরে নেমে অটো রিক্সা করে মাদ্রা গ্রামের পথে আমি। এই সেই পথ যে পথে ১০ বছর যাবত আমার পায়ের ধুলো পড়েনি। কখনো কেউ এই পথের গলিতে আমার কন্ঠ শুনেনি, কারো সাথে গিলি ডান্ডা কাবাডি খেলাতেও মেতে উঠা হয়নি এতটি বছরে। মনেতে অনেক ভাবনা আমার, আবার সংকোচ ও কম নয়। আমি যে ঘরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি একটা সময় সে ঘর আনন্দে উল্লাসে মেতে থাকতো। মায়ের ভালোবাসা বাবার শাসন আর আমার খুনসুটি আবদারে পরিপুর্ন আমাদের সেই দোতলা বাড়িটি হয়ত আজ সুনসান হয়ে গেছে। শুধু নিরবতা আর আত্মচিৎকার ছাড়া হয়ত কিছুই নেই। বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে ঠাসা রয়েছে আমার বাল্যকালের স্মৃতি, ঠাসা রয়েছে প্রথম ঘর ছেড়ে যাবার সময় মায়ের কান্না, বাবার চাতক নয়নে আমার পথ দেখে যাওয়া এই বুঝি খোকা ফিরলো। রয়েছে আমার প্রথম কান্নার চিৎকার, রয়েছে মায়ের আচলে মাথা লুকিয়ে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হবার কষ্টে দিনরাত কেদে যাবার সেই না ভোলা এক জীবনের গল্প। হঠাৎ করে অটোরিক্সা থেমে গেলো, ড্রাইভার এর কথার শব্দ কানে আসলো, "ভাইজান হাওলাদার বাড়ি এসে গেছে" আমি কোন প্রতিউত্তর করলাম না। মাথা বের করে বাড়ির দিকে তাকালাম। কাকার বাড়ি আজো আগের মতই আছে, সেই লাল রংয়ের দেয়াল এখনো পরিবর্তন হয়নি, চোখ ঘুড়িয়ে আমাদের ঘরের দিকে তাকালাম, দেয়ালে শ্যাওলা পড়ে গেছে কতকাল যেন এই দেয়াল আর পরিষ্কার হয়নি। আমি আকিফার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলাম, "ঘর আগায়া আব উতার যাও"। আমি আমার স্ত্রীর সাথে হিন্দিতে কথা বলার কারনে অটোর মানুষজন কৌতুহল ভাবে তাকালো, একজন বৃদ্ধ বয়স্ক লোক আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলো, "এই বাড়ির তে কে থাকে তোমার" আমি একনজর তাকে দেখলাম, আর বলতে লাগলাম, এটা আমাদের বাড়ি আমার বাবার নাম ফজল হাওলাদার। লোকটি কেন জানি আবেগী হয়ে গেলো, অটো থেকে নেমে আমার সামনে দাঁড়ালো দু হাতে আমার গাল ছুঁয়ে দিলো, তার চোখ পানিতে ভরে উঠেছে। আমি বুঝতে পারছিলাম না কিছু সে চিৎকার করে বাড়ির মানুষ ডাকতে লাগলো, আরে আজিজ আছিস নাকি ঘরে, সুহেল, নাজমা, ইব্রাহিম কই তোরা দেখ কে এসেছে, তাড়াতাড়ি আয়। এসব কথা বলতে বলতে সে তার চোখের পানি ছেড়ে দিলো। নিজেই বির বির করে বলতে লাগলো, নিজ হাতে তোরে কোলে বসাইয়া খাওয়াইছি। তুই ছোট থাকতে আমাদের গ্রামে অনেক বড় মারামারি হয় একজন মারা যায় পুলিশ আমাকে আসামী ভেবে ১৬ বছর জেল হাজতে রাখলো। তোকে দেখার বড্ড সাধ হতো, তোর মা যেত আমাকে দেখতে কিন্তু তোকে নিয়ে আসতে আমিই নিষেধ করতাম। আপন মামার এমন পরিস্থিতি দেখে আমার জন্য যদি তোর মনে ঘৃনা জমে না যায় এই ভয়ে। আর যখন আমি ফিরে আসলাম তখন তুই রাগ করে চলে গেলি, দশটি বছর ধরে তোকে কোথায় না খুজেছি আমি। বলতে বলতে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে উঠলো, আর সমস্ত শক্তি দিয়ে ডাকতে লাগলো, তোরা কি মরছোস নাকি সব, কই গেলি তোরা বের হো। আমি বোকার মত দাঁড়িয়ে তার আনন্দের পাগলামী দেখছিলাম। এরই মধ্যে সোহেল বের হয়ে আসলো, সোহেল আমার চাচাতো ভাই, আমার থেকে ৫ বছরের ছোট। সোহেলকে আমার চিনতে মোটেও কষ্ট হয়নি। আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো, আর বলতে লাগলো, "আরে নজরুল ভাই, কেমন আছো ভাই, এমন রাগ কেউ করে, কোথায় ছিলে এতদিন।" আমাকে কথা বলার সুযোগ কেউ দিচ্ছেনা, লক্ষ করলাম সোহেলের চোখেও বিন্দু জল চকচক করছে। আমার উত্তরের সে অপেক্ষা করলো না, দৌড়ে ভেতরে গেলো। আর চিৎকার করে সমস্ত মানুষদের ডাকতে লাগলো, "কে কোথায় আছেন বের হন দেখেন নজরুল ভাই এসেছে" বাড়ির মানুষ একে একে ঘর থেকে বের হতে লাগলো, আশে পাশের বাড়ির মানুষ ও জরো হয়েছে। আমি আর আকিফা ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উঠানে এসে আমার বড় বোন নাজমা কে পেলাম সে ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো কপালে গালে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিলো বোনের ভালোবাসায়। দুচোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আমাকে শুধু শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। তারমুখে কোন শব্দ নেই আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। আমিও তাকে জরিয়ে ধরলাম, কতক্ষন দাঁড়িয়েছিলাম সেই উঠানে বলতে পারবোনা। সবার দিকে চোখ ফিরিয়ে দেখলাম সবাই জলভরা আখি নিয়ে আমাদের দুজনকে দেখে যাচ্ছে। এক নজর আকিফার দিকেও দিলাম, সে বার বার হাতের টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে যাচ্ছে। চোখের কাজল লেপ্টে গেছে তার গালে। তাকে হাতের ইশারায় কাছে ডেকে নিলাম সে পাশে এসে দাঁড়ালো, আমি আপাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলাম, "আপা ওর নাম আকিফা আমার স্ত্রী" আপা আমাকে ছেড়ে এবার আকিফাকে জড়িয়ে ধরলেন, হাউমাউ করে উঠলেন। আমি আকিফা আর আপাকে এক সাথে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। এরই মধ্যে সোহেল আমার দ্বিতীয় বোন হোসনেয়ারাকে ফোন করে বলে দিয়েছে আমি এসেছি। আমাদের বাড়ির দক্ষিন দিকে নদীর পাড়ে স্বামী নিয়ে থাকে। আমার কথা শুনতেই পাগলের মত ক্ষেত দিয়ে ছুটে এসেছে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমাকে ঠাস করে গালে চড় বসিয়ে দিলো, আর হাউমাউ করে ওরে আমার কলিজার ভাই রে..... কোথায় ছিলি রে এতগুলো বছর বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। পাগলের মত বকতে লাগলো। নিজের চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না, শত চেষ্টার পরেও হুরহুর করে পানি ঝরে পড়তে লাগলো। সবাই মিলে আমাকে আর আকিফাকে ঘরে নিয়ে গেলো।

আমি আসার কারনে নাজমা আপা সবাইকে নেমন্তন্ন দিয়েছে। এই দাওয়াত এর দুটি কারন তারা আমার আর আকিফার বিয়ে আবার দিবে, একটি মাত্র ভাই আমি, আমার বিয়ে তারা না দেখে মরতে চায়না। আর দ্বিতীয় কারন অনেকদিন পর এই হাওলাদার বাড়িতে সুখ ফিরে এসেছে। আমার আর আকিফার বিয়ের দিন তারিখ সব ঠিক করলো, তাদের আনন্দে আমি কোন রকম বাধা প্রদান করিনি। যেভাবে তারা সুখ খুজে পাচ্ছে সেভাবেই তাদের কে করতে দিচ্ছি ফাকে একবার আকিফাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তার কোন আপত্তি আছে নাকি? সে যে উত্তর দিয়েছিলো এমন উত্তর শুনে কষ্টেসৃষ্টে মানুষও সুখের নদীতে ভেসে যাবে, মজলিশ ভরা মানুষের সামনে সে বললো "আগার তুম মেরি জান মাংলেতি, তো হাছতে হুয়ে দে দেতা, লেকিং তুম তো মুঝে পেয়ার ওর খুশিয়া দে রাহিহো, মেরা ভালা কা ইনকার হো সাকতা হে"। সবাই হিন্দি না জানার কারনে এটার অর্থ সবাইকে বুঝিয়ে দিতে হলো। আমি সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলাম, আকিফা বাংলাদেশের কিছুই দেখেনি। বিয়ের তো এখনো সপ্তাহ খানেক সময় আছে আমি আকিফাকে নিয়ে দু-তিন দিন বাহিরে ঘুরে আসতে চাই। প্রথমে কেউ রাজী না হলেও পরবর্তীতে সবাই রাজী হলো। আমি আকিফা কে নিয়ে সিলেট মৌলভীবাজার যাবো বলে ঠিক করলাম। কারন আমি আকিফা কে কথা দিয়েছিলাম, আমার জীবনের গল্প আমি দেশে ফিরে জানাবো। আর আমার জীবনের শ্রেষ্ট গল্প রয়েছে সিলেটের অলগলিতে। আমরা দুদিনের প্রয়োজনীয় জামা কাপড় নিয়ে সিলেটের জন্য বের হয়ে গেলাম। বাসে বসে আমি আকিফাকে বলতে লাগলাম, আজ তোমাকে একটি গল্প শোনাবো মোটেও কোন উপন্যাসের পাতা থেকে নেওয়া গল্প না। আমার জীবনের অবিচ্ছেদ এক অংশ এটা। আমি ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাই ১৫ বছর আগে। তখন আমি কম্পিউটার ডিপ্লোমা শেষ করেছি। ঘরে কিছুটা অভাবের টানাপোড়ন চলছিলো, সংসারের হাল ধরার সময়টাও এসেছে। কি করা যায় তাই ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেক চেষ্টা করেও আমি চাকুরী পাচ্ছিলাম না। আমার এক বন্ধু ছিলো নাম রায়হান, সে কাজ করতো সিলেটে "ওয়েডিং প্লানার হাউজ" নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানটির কাজই ছিলো বিয়ের ডেকোরেশন থেকে শুরু করে খাওয়া দাওয়া, ভিডিও প্রোগ্রাম ইত্যাদি করা। সে তার রেফারেন্সে আমাকে সেখানে চাকুরী নিয়ে দিলো। আমি সিলেট মৌলভীবাজার চলে আসলাম। সেখান থেকেই জীবন কেমন যেন বিচিত্র হতে লাগলো। আমার অফিসটি ছিলো মৌলভীবাজার চৌমুহনী তে। প্রথম মাস খুব ভালোভাবেই কেটে গেলো আমার কর্মজীবন। একদিন সকাল বেলা আমি থ্রিকোয়াটার প্যান্ট, আর স্যান্টু গেঞ্জি গায়ে দিয়ে দাত ব্রাশ করতেছিলাম রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে। ভোর বেলা ছিলো তাই লোকজনের আশা যাওয়া কম, মাঝে মাঝে দু একটা গাড়ি চলছে আকাশে সুর্যের আলোয় সোনার মত চিকচিক করছে। এমন সময় শুনতে পেলাম পেছন থেকে একদল মেয়ের হাসি, আমি ব্রাশ মুখে নিয়েই পেছন ফিরে তাকালাম। চারটি মেয়ে হেটে আসছে মেইন রাস্তার দিকে। তিনজন। মেয়ে পড়েছিলো থ্রিপিস আর একজন বোরকার উপর গোলাপী রংয়ের হিজাব। আমি সেই মেয়েটিকে খুব করে দেখতে লাগলাম, আর ভাবলাম অপ্সরা বুঝি এমনি দেখতে হয়। যখন তারা আমার নিকটে এসে পড়লো, তখন একটি মেয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, "আহা ভাইজানের বুঝি প্যান্ট কেনার টাকা নেই রে, তাই ছোট প্যান্ট পড়ে আছে" আমিও কথার জবাব দিতে ভুল করিনি, ঠোটে হাসির ভাব নিয়ে বলে ফেললাম, "ভাইয়ের জন্য এতটান বোনদের যদি থাকে তারা একজন বোরখাপরে মাথায় গোলাপী হিজাব বান্ধে এমন একটি মেয়ের সাথে বিয়ে করিয়ে দিলেই তো পারে। শশুর বাবা যৌতুক না দেক একটা প্যান্ট শার্ট তো দিবেই। আমার কথা শুনে হিজাব পড়া মেয়েটি আড়চোখে আমার দিকে তাকালো। তার চোখের তীক্ষ্মতা এত বেশী ছিলো যে চোখ দিয়েই আমাকে মেরে ফেলেছিলো, তেছড়ি নয়নে ছুড়ি চালিয়ে দিলো আমার মনেতে। আমি যখন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে তার রুপ দর্শন করছিলাম তখন সে মেয়েটি বলে উঠলো "সিলেটি মেয়ে কি এতই সস্তা যে চাইলেই পাওয়া যায়" বলে সবাই খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারা আর না দাঁড়িয়ে হেটে যেতে লাগলো মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের রাস্তা ধরে। সেদিন থেকে প্রতিদিন আমি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম, থ্রিকোয়াটার প্যান্ট আর হাতে ব্রাশ নিয়ে। এতদিনের মধ্যে হিজাব পড়া মেয়েটির সাথে আমার কথা হয়নি, যাওয়ার পথে শুধু তাহমিনার সাথে কথা হতো, আর আমার প্রতি কথার উত্তরে আমি শুধু সেই হিজাব পড়া মেয়েকে ইংগিত করতাম। এভাবেই প্রায় দুমাস কেটে গেলো, এরমধ্যে একবারো তার বুলি ফুটেনি শুধু তেছড়ি নয়ন দিয়ে আমাকে দিনের পর দিন আঘাত করে যাচ্ছে। অবশেষে এক সময় তার নাম জানতে পারলাম মেয়েটির নাম মৌমি। তিন মাসের পরিশ্রমে শুধু নামটাই জানা হয়েছে আমার, তখন তাহমিনার কথা সত্য মনে হয়েছিলো সিলেটী মেয়ে এত তাড়াতাড়ি ধরা দিবেনা। আমিও নাছোড়বান্দা হাল ছাড়বার মানুষনা। পানি কোথায় গিয়ে গড়াবে শেষ না দেখে ছাড়বোনা। একদিন সকালে তারা যখন দল বেধে আসছিলো আমাকে দেখে তাহমিনা কথা বলতে লাগলো, "আর কত পেছনে ঘুরবেন ছোট প্যান্টওয়ালা সাহেব" তাহমিনার কথা শুনে মৌমি বাদে সবাই হেসে উঠলো, সেও হাসছিলো মুচকি মুচকি। আজ যাইহোক মৌমির সাথে আজ কথা বলবোই। আমি তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, "আপনি এমন কেন?। মৌমি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো আর বললো
০- কেন কি করছি?
-- এতদিন ধরে আমি যে আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি আপনি বুঝেন না?
০- কি করে বুঝবো আপনি তো তাহমিনার সাথেই কথা বলেন সব সময়।
-- হ্যা বলি কিন্তু ইশারাতো আপনাকে দেই।
০- এত ইশারা আমি বুঝিনা।
-- তাহলে কি বুঝেন?
০- আপনি যে থ্রিকোয়াটার প্যান্ট পড়েন। পায়ের উপর যে ঘনো পশম দেখা যায়, এইটা তে বুঝি আপনি একটা বনমানুষ।
মৌমির কথা শুনে সবাই এত জোরেই হেসে উঠলো যে ফাকা রাস্তা গুঞ্জন করে উঠলো। আমিও খানিকটা লজ্জা পেয়ে গেলাম, প্রথম দিন তার সাথে কথা হলো, আর আমাকে বনমানুষ বানিয়ে দিলো। তারা কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে হাসতে হাসতে চলে গেলো। আমিও বাসায় গেলাম, আর সিদ্ধান্ত নিলাম কালকে ফুলপ্যান্ট পড়ে দাড়াবো। রাত যেন কোনভাবেই আমার কাটেনা, সারা রাত তার মিষ্টভাষী কথার সুর কাজল দেওয়া চোখ আর মায়াবী হাসির মানে খুজতেই ভোর হয়ে আসছে। ফুলপ্যান্ট আর গেঞ্জি পরে হাতে ব্রাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তারা আসছে, সবাই এসে আমার কাছেই দাড়ালো, তাহমিনা বলতে লাগলো, "ছোট বাচ্চাটি আজ বড় হয়ে গেছে" বলে হেসে উঠলো। আমি হাসার ভান করে মৌমির সামনে গেলাম, আজ বনমানুষ এর মত লাগছে কি? সে মাথা নাড়িয়ে না বললো। তার ব্যাগ থেকে একটি প্যাকেট বের করে সামনে এগিয়ে দিলো আমি হাতে নিয়ে তার ভেতর থেকে একটি ফুলপ্যান্ট পেলাম। ব্যাগের উপর লালকালিতে লেখা রয়েছে বনমানুষ হতে দেখতে পারবোনা, তাই আপনার জন্য এনেছি। সেদিন থেকে প্রতিদিন মৌমির সাথে দেখা আর হাজারো না বলা কথা বলা হতো। এখন তারা সবাই আমাকে আর মৌমি কে রেখে দূরে গিয়ে মৌমির আসার অপেক্ষা করে। তখনকার সময় হাতেগোনা মানুষ মোবাইল ব্যবহার করতো। আমাদের কথা বলার সুযোগ কম ছিলো বলে আমরা ভোরবেলায় দেখা করে সারারাত আর দিনের কথা বলে ফেলতাম। আর অপেক্ষা করতাম আরেকটি ভোর হবার। এভাবেই আমাদের এক বছর প্রেমের দিন কেটে গেলো, আমি বেধে গেলাম এক না ভাংগা মায়ার বাধনে এক অপ্সরার প্রেমে মজনু হয়ে দিনরাত তার ভাবনাই ভাবতে লাগলাম। কিন্তু ভালোবাসাতে যদি কষ্ট না থাকে সে ভালোবাসা নাকি খাটি হয়না। তাই কষ্টের সাগরে আমাদেরকেও ডুব দিতে হলো। মৌমির ভাই মৌলভীবাজার এর প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। সে যখন জানতে পারলো আমার কথা সেদিনই এক সর্বনাশা দিন হয়ে আসলো আমার জীবনে। সে জানতে পারার পরের দিন আমাকে ধরতে মৌমির পেছনে ভোরবেলাতে এসেছিলেন যা আমার জানা ছিলোনা। মৌমিকে আসতে দেখে আমি হাসিমুখে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, আজ তার চোখে ভয় দেখলাম আমি, সে আমাকে চোখের ভাষায় বলেছিলো চলে যাও এখন কিন্তু তা বুঝতে বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছিলো। মৌমির ভাই এসে আমার কলার ধরে বসলেন, কোন কথা না শুনে না বুঝেই আমাকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলো। তার সাথে আরো দুটো ছেলে ছিলো, তিনজনে মিলে ইচ্ছেমত কাপড় কাছাড় মত আমাকে কিল ঘুশি আর লাথি দিয়ে ওয়াশ করতে লাগলো মৌমি আমাকে বাচানোর জন্য ছুটে আসলে তার ভাইয়ের হাতে তাকেও উত্তমমধ্যম খেতে হলো। দেয়ালের সাথে বাড়ি খেয়ে আমার মাথা ফেটে গেলো, আমি জ্ঞানহীন ভাবে রাস্তার উপর পড়ে রইলাম। তারা মৌমিকে নিয়ে চলে গেলো। আমি অসহায় যাযাবর এর মত পড়ে রইলাম।

যখন আমার জ্ঞান ফিরে আসে, তখন আমার সামনে আমি আমার অফিসের ডিরেক্টর আজমল সাহেব আর রায়হান কে দেখতে পেলাম। আজমল সাহেব একটি কথাই বললো, জলে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ধ আমি করতে পারবো না। তুমি তাকে নিয়ে মৌলভীবাজার ছেড়ে চলে যাও। আরো তিনচারদিন মৌমিকে দেখার আশাতে সেখানে থাকলেও আমি তা পারিনি যেদিন মাদারীপুর চলে আসবো সেদিন মৌমির একটি চিঠি তাহমিনার হাত দিয়ে আমার কাছে আসে, তাতে কয়েকটি কথাই লেখা ছিলো। সব ভালোবাসা পুর্নতা পায়না আমাদের যাত্রা বুঝি এটুকুই ছিলো, আগামী মাসে আমার বিয়ে, তুমি এখান থেকে চলে যাও। আর শোন না তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু তুমি আমার ভাগ্য রেখাতেই নাই। চিঠিটা পড়ে আমি কান্নায় ভেংগে পড়লাম। রায়হান আমাকে সামলানোর অনেক চেষ্টা করলো কিন্তু চোখের পানি কিছুতেই বাধ মানেনা। আমাকে নিয়ে সে গ্রামে ফিরে আসলো, সেদিন থেকে আমি চিড়চিড় মেজাজের হয়ে গেলাম। কেউ আমাকে কিছু বললে সহ্য করতে পারিনা। হুটহাট রাগ হয়ে যাই, কথায় কথায় গালি গালাজ করি। অন্ধকারে মায়ের কোলে শুয়ে কাঁদতে পছন্দ করি এখন। মৌমির বিয়ের দিন আমি আবার সিলেট এসেছিলাম তার বাড়ি একদম নতুনের মত করে সাজানো। অগোছালো চুল আর মুখভর্তি দাড়ি হয়েছে এখন। আমি তার বাসার আবডালে দাঁড়িয়ে রয়েছি, কিন্তু আমাকে তার ভাই দেখেই চিনে ফেলেছিলো, কাছে এসে কলার ধরে ঘুশি তুললো আবার। কিন্তু আমি তার পায়ে পড়ে গেলাম, আর বলতে লাগলাম "ভাই আমি শুধু এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো বিয়ে শেষ হলে আমি এখান থেকে চিরদিনের জন্য চলে যাবো আর কখনো আসবোনা। সে আমার কথা মেনে নিলো কিন্তু যাবার সময় আবার শাসিয়ে গেলো। আমি ঠায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এক নাগারে ভেতরের অনুষ্ঠান দেখে যাচ্ছিলাম। তাহমিনা কয়েকবার দেখেছে আমাকে কিন্তু মৌমির ভাইয়ের ভয়ে কথা বলেনি। এক সময় মৌমির বিয়ে শেষ হলো, বরযাত্রীরা বউ নিয়ে চলে যেতে লাগলো, সারাদিনের অপেক্ষা শেষ করে মৌমিকে দেখতে পেলাম। লাল শাড়ী, দেহ ভর্তি বাহারী গহনা তে সাজানো যেন এক পুতুল পরী লাগছে। সে গাড়িতে উঠ বসছে ধীরে ধীরে গাড়ি চলে যেতে লাগলো, মৌমি আমাকে দেখে কয়েকফোটা চোখের পানি ঝড়ালো, এটাই হয়ত সে তার ভালোবাসার শেষ প্রকাশ করেছে। সবাই চলে যাবার পর মৌমির ভাই আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলো, আমার সামনে খাবার দিয়ে বললো "নেহ বিয়ের খাবার খেয়ে এবার বিদায় হো" আমি না করলাম না, আমি হাজার বছর বেচে থাকলেও এমন বিয়ের খাবার আর খেতে পারবো না, এই বিয়ের খাবারে আমার কান্না, আমার রক্ত মিশ্রিত। এই খাবারে মৌমির ভালোবাসা ত্যাগ, কান্না মিশ্রিত এমন খাবার আর খাওয়া হবে না কোনদিন। আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তাহমিনা, আমি খাচ্ছি আর চোখের পানি ঝড়িয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি ফোটা আমার খাবার প্ল্যাটে পড়েছে আমি সেই অস্রুসহ গিলে গিলে খেয়েছি আমার প্রেয়সী আমার ভালোবাসার ত্যাগের বিয়ের খাবার।

আমার গল্প শেষ করতে করতে আমরা সিলেট মৌলভীবাজার চলে আসলাম। আকিফা আমাকে জরিয়ে ধরে কতক্ষন কেদেছিলো জানা নেই, সিলেট আসতে বিকেল হয়েছে এখনো সন্ধ্যে হতে বেশ সময় বাকি। সিলেট এখন আগের মত নেই, আমি সেই রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি সব কিছুই অচেনা মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্যে মৌমির বাসাটি আকিফাকে দেখিয়ে আনা। রাস্তার মধ্যে আকিফা জিজ্ঞেস করলো "তুমি ঘর কেন ছেড়েছিলে" আমি দীর্ঘ একটি নিশ্বাস নিয়ে বলতে লাগলাম, ঘর আমি ছাড়িনি আমাকে ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাবার জন্য বাধ করা হয়েছে। মৌমির বিয়ের দুইমাস পর আমি, বাবা মা ঢাকায় আসতেছিলাম মায়ের চিকিৎসার জন্য। তখন আমার এ দুইবোন জর্ডান গিয়েছিলো। সেদিন ঝরের দিন ছিলো, বিকেল নাগাত আমরা লঞ্চে উঠি। লঞ্চ মাঝনদে আসতেই শুরু হয় প্রকৃতির তাণ্ডব। নদীর ঢেউ কয়েক গুন বেড়ে যায়। পদ্মার মাঝখানে লঞ্চ ডুবিতে মা বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আমি কিভাবে যেন বেচে গেলাম, তারপর থেকে আমার আর ঘরে যাবার প্রয়োজন হয়নি। ব্যস্তার শহরে হামাগুড়ি দিতে দিতে নিউজিল্যান্ড গিয়ে পড়লাম। দেখতে দেখতে আমি মৌমির বাসা খুজে বের করলাম। আমার ভেতরে যেতে একটু সংকোচ হচ্ছিলো, আকিফাকে ভেতরে পাঠালাম প্রথমে, আকিফা কিছুক্ষন পর একটি জগ আর পানি নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। এসে আমাকে পানি দিলো আমি খেতে লাগলাম, তারপিছু একটি মেয়ে আসতেছে আমি ভালো করে দেখতে লাগলাম, নাহ এটা মৌমি না, কিন্তু আমার পরিচিত এমনটা মনে হচ্ছে। সে যত কাছে আসতেছে ততই তার চেহারা মনে পড়তে লাগলো আরে এতো তাহমিনা, তাহমিনা এই বাসায় কি করে মনেতে প্রশ্ন জাগলো। তাহমিনা কাছে এসে আকিফাকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলো, "ওর কুছ চাহিয়ে" আকিফা মাথা নেড়ে না উত্তর দিলো। আমি তাহমিনার দিকে তাকিয়ে রইলাম, তাহমিনা আমার দিকে নজর দিতেই যেন চমকে উঠলো, সে কিছু একটা বুঝতে চাচ্ছে কিন্তু বুঝে উঠতে পারছে না। আমি তাহমিনাকে হাসিমুখে বলে উঠলাম, "এখনো কি এই রাস্তায় কেউ থ্রিকোয়াটার প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকে?" তার চোখ জ্বল জ্বল করে উঠলো জলে সে তার শাড়ির আচল দিয়ে মুখ চেপে ধরলো, এতগুলো বছর পর আবার আমার সাথে দেখা হবে এটা হয়ত সে কল্পনাতেও ভাবেনি। চোখথেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো, মৃদু শব্দে বলতে লাগলো, "ভাই ভেতরে আসুন, মৌমির মেয়ে আছে এখানে" মৌমি নামটা শুনে আর ধরে রাখতে পারলাম না ভেতরে গেলাম। বাড়ির বারান্দায় হুইল চেয়ারে বসে আছে মৌমির বড় ভাই তাকে চিনতে আমার কষ্ট হয়নি। তাহমিনা আর মৌমির ভাইয়ের বিয়ে ৬ বছর আগে হয়। একটি এক্সিডেন্ট এ মৌমির ভাইয়ের পা অকেজো হয়ে যায় সেই থেকে তার স্থান হুইল চেয়ারটিতেই। তাহমিনা মৌমির মেয়েকে নিয়ে আসছে আমার সামনে, দেখতে একদম মৌমির মতই হয়েছে, সেই চোখ সেই নাক সেই গোলগাল গাল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম, নাম কি তোমার "আমার নাম তাসফিয়া" আমার মনে পড়ে গেলো আরেকটি কথা আমি একবার মৌমিকে বলেছিলাম আমাদের মেয়ের নাম তাসফিয়া হবে। মৌমি আমার সেই কথা হয়ত ভুলেনি। হুইল চেয়ার এর চাকা ঘুরিয়ে মৌমির ভাই আমার কাছে আসলো, আমাকে চিনতে পেরে একটি কথাই বললো, "নজরুল ভাই আমাকে মাফ করে দিস" তার চোখে আমি করুণারূপ দেখেছি অসহায়ত্ব দেখেছি। আমি শুধু মাথা নাড়িয়ে গেলাম। আর সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলাম আমার স্ত্রীর সাথে। আমি তাহমিনার কাছে জানতে চাইলাম মৌমির কথা, সে জানালো মৌমি তাসফিয়া কে জন্ম দেবার ২ দিন এর মাথায় পরবাসী হয়েছে। মৌমির স্বামী, মৌমি মারা যাবার পর আরেকটি বিয়ে করে তারপর থেকে তাসফিয়া তাহমিনার কাছেই থাকে। তাহমিনার কোন সন্তান হয়নি তাই মৌমির মেয়েকেই তার মেয়ে হিসেবে বেছে নিয়েছে। মৌমি আর এই পৃথিবীতে নেই কথাটি শুনে থমকে গেলাম। কোন কথা বলতে পারলাম না, আকিফার হাত ধরে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম, রাস্তার উপর আসতেই রংগিন চিত্রছবির মত আমার সামনে ভেসে উঠলো সেই ফেলে আসাদিন। এই মোড়েই দাড়িয়ে কথা বলেছি প্রেয়সীর সাথে, তার হাসির শব্দ শুনতে পারছি বাতাসের সাথে। আমার ফেলে আসা যে প্রেম এই রাস্তাতেই শুরু হয়েছিলো, এই রাস্তাতেই সে প্রেম ক্ষ্যান্ত হয়েছে। এখন শুধু মৌমি আর আমার ভালোবাসা গভীর রাতের নির্জনতায় থাকে। অতি গোপনে আপন পরশে বেচে আছে হৃদয়ের মাঝে আমার মনের ভেতর মৌমির প্রেম। আমি আর একদিনো সিলেট এ রইলাম না। সেখান থেকে সোজা মাদারীপুর চলে আসলাম। আমার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন বেশ জোরেশোরে চলছে। আমার আর আকিফার দ্বিতীয় বিয়ে হতে যাচ্ছে। সবার চোখে মুখে আনন্দ, আমিও যে আনন্দিত নই এমন না। কিন্তু মৌমি আর নেই, ভেবেছিলাম সে সুখের সংসার করছে আমাকে ভুলে, কিন্তু জানা ছিলোনা তার ভালোবাসার ছাপ রেখে যাবে তার মেয়ের রুপে। আর পরবাসী হয়ে সে হারিয়ে গিয়েছে শুধু আমার থেকে নয় পুরো পৃথিবী থেকে। আমার আর আকিফার দ্বিতীয় বিয়ে শেষ হলো। আজ আমার দ্বিতীয় বাসর রাত। বউ সেজে এক পাকিস্তানি মেয়ে আমার অপেক্ষায় বসে আছে, আমি পাশে গিয়ে তার ঘোমটা সরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম "ডার লাগরাহা হে" সে মুচকি হেসে উত্তর দিলো "থোড়া থোড়া"। আমি গালভর্তি হাসি দিয়ে তার কপালে একটি চুমু দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।
ইশারায় ভালোবাসা।

ইশারায় ভালোবাসা।


প্রতিদিন কোচিং শেষ করে মডেল টাউন হয়ে আসার সময় ১২ তালা বিল্ডিংটার দিকে তাকিয়ে দেখতাম ৪ তালা থেকে একটা মেয়ে ব্যালকনি থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আসলে কোচিং শেষ হলে আমার ফ্রেন্ড সার্কেলরা এক সাথেই বের হই। কারো চোখটা সেইখানে না পড়লেও আমি ঠিকই আড়ি আড়ি চোখ নিয়ে সেই দিকটাতে দৈনিক তাকাতাম। ৪ তলা থাকা মেয়েটা ঠিকই লক্ষ করতো আমি যে উনার দিকে তাকিয়ে থাকি। প্রায় এক মাস এমনে এমনেই কেটে গেলো। সেইদিন কেন যেনো খুব ইচ্ছে হলো আজ কোচিং এর ছাদের থেকে দাঁড়িয়ে মেয়েটাকে একটু কাছের থেকে দেখবো, তাই সবাইকে চলে যেতে বলে আমি একটু ছাদে গেলাম। খেয়াল করলাম মেয়েটা আমার ফ্রেন্ডদের দিকে তাকিয়ে কি যেনো খুজছে। বুঝতে আর বাকি রইলো না যে, মেয়েটা আমাকেই খুজছে। যেতে যেতে একদম ছাদের রেলিং এর কাছে যেয়ে ছোট একটা ইট নিয়ে ভাবলাম মেয়েটার কাছে ছুড়ে মারবো। তার আগেই মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে অনেকটা অবাক হয়ে গেলো। আমিও হা করে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। বেগুনি রঙ এর টি শার্ট আর সম্ভবত প্লাজু পরনে ছিলো। মেয়েটা নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে আস্তে করে সেখান থেকে চলে গেলো। তবুও আমি সেখান থেকে যেতে পারিনি। মডেল হিসাবে যে কোনো নায়কের সাথে মেয়েটাকে খুব মানাবে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম মেয়েটা যদি আরেকটা বার একটু আসে! প্রায় আধা ঘন্টা পর মেয়েটা আবার আসলো। আমাকে দেখে কি মনে করে যেনো একটা হাসি দিয়ে ইশারায় বল্লো, কয়টা বাজে? আমি আঙ্গুল দিয়ে দেখালাম ৫.৫৫ বাজে। মেয়েটা আমাকে বুঝালো এখন আযান দিবে। বাসায় যান। এমন করে আরো কয়েকটা দিন কেটে গেলো। ফ্রেন্ডরা সন্দেহ করবে দেখে আমরা এক সাথেই বের হতাম তবে ওরা বাসায় চলে গেলেও আমি আবার ফিরে এসে ছাদে যেয়ে মেয়েটার সাথে ইশারায় কথা বলতাম। কিন্তু মেয়েটা হঠাৎ হঠাৎ করে রুমে যেয়ে প্রায় ২০ মিনিট কিংবা তারো বেশি সময় পার করে আসতো। আমি হুট করে একদিন ইশারায় বলে উঠলাম, ফোন নাম্বারটা দেওয়া যাবে? মেয়েটা সেই দিন কিছু না বলে চলে গেলো। প্রায় ঘন্টা খানিক অপেক্ষা করার পরও মেয়েটা আসলো না। আমি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছিলাম। এইটাই মনে হয় লাভ এট ফাষ্ট সাইট! রাতে ঘুমানোর সময় মেয়েটাকে খুব কাছে ফিল করতাম। একটা সময় আমার এমন একটা অভ্যাস হয়ে গেলো যে, ওকে নিজের কাছে অনুভব না করলে ঘুমাতেই পারতামনা। আমাদের সেই ইশারায় ইশারায় কথাটার বয়স দুই মাস হয়ে গেছিলো। আমি যে ওর প্রতি দিন দিন কতটা দুর্বল হয়ে উঠেছিলাম তা ও ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো আমার কর্ম-কান্ড দেখে। ইশারাতে দূর থেকেই আমি ওর চুলে ব্যানি পাকিয়ে দিতাম, গাল ধরে টানতাম ও খুব ফিল করতো। কিন্তু মাঝে মাঝে ওর মুখটা হঠাৎ মলিন হয়ে যেতো। এই জিনিসটা কেন হতো তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি নি। মেয়েটার নাম আনিকা ছিলো।

শুক্রবার দিন আনিকার সাথে আমার দেখা হতো না। কারন শুক্রবার কোচিং বন্ধ থাকতো। কিন্তু চলতি সাপ্তাহের শুক্রবার দিন আমি ওকে দেখার জন্য এসেছিলাম। মেয়েটাও বের হয়েছিলো। সেইদিন ওকে খুব রিকুয়েস্ট করে ওর ফোন নাম্বারটা নিয়েছিলাম। সেইদিন রাতে ওকে ফোন দিয়ে অনেকক্ষন দুই জন চুপ করে ছিলাম। মেয়েটা সেই নিরবতা ভেঙ্গে আমাকে বলে উঠলো, রাতে খাওয়া দাওয়া হইছে? "হুম, তুমি খাইছো?
"হুম।
ওর কন্ঠটার মাঝে আমার প্রতি এক প্রকারের মায়ার আভা খুজে পাচ্ছিলাম। মেয়েটা আমাকে আবার বলে উঠলো, রোজ রোজ এতটা সময় আমার জন্য কেন ব্যয় করেন?
"ভালো লাগে। আপনিও কেন রোজ রোজ আমার জন্য অপেক্ষা করেন?
"একটা সময় আপনার জন্য অপেক্ষা করতাম না। আপনাদের কোচিং শেষ হলে সবাই এক সাথে বের হয়ে যে, দুষ্টামি করতেন তা দেখতাম। হঠাৎ আপনি করে বল্লেন কেন?
"আপনিও আপনি করে বলেছেন তাই। আমার কথাটা শুনে মেয়েটা একটু হেসে বলে উঠলো, ঘুমাবা না?
"একটু পর। নাম্বারটা আগে দিলে কি হতো?
"কিছুই হতো না।
"আমি যে তোমার প্রতি কতটা দুর্বল হয়ে পরছি তুমি কি বুঝোনা?
"বুঝে কি হবে!
"আচ্ছা তুমি কি আমাকে যাদু করছো? আমার কথাটা শুনে আনিকা একটু হেসে বলে উঠলো, আমারো একি প্রশ্ন তুমি কি আমাকে যাদু করেছো?
"নাহ!
"এখন ঘুমাও আমিও ঘুমাবো।
"ওকে।
ফোনটা রেখে বিছানায় গাঁ টা এলিয়ে দিলাম।

বলতে বলতে আরো একটা মাস পাড় হয়ে গেলো। কেন যেনো মনে হতো ও আমার কাছে কিছু লুকচ্ছে। ও যে আমাকে ভালবাসে সেটা ও মুখে না বল্লেও ওর এরকম মায়া জড়ানো কথাগুলোতে ঠিকি বুঝতাম। কিন্তু আমার মনটা বুঝতে চেতনা। আমি চাইতাম ও আমার প্রতি কিছুটা আহ্লাদী হোক, আমার কোনো কিছুতে ভুল ধরে একটু রাগ দেখাক, ওর লাইফে আমি কতটা ইম্পরট্যান্ট এরকম কিছু আমাকে বুঝাক। কিন্তু তেমন কিছুই ও আমাকে বুঝায়নি। মাঝে মধ্যে খুব রাগ হতো কিন্তু ওর উপর রাগ করেও থাকতে পারতাম না। দিন দিন ওর প্রতি খুব বেশিই দুর্বল হয়ে উঠেছিলাম। আর আমার পাগলামীর মাত্রাটাও খুব বেড়ে যাচ্ছিলো। একটাবার শুনতে চেয়েছিলাম ওর মুখ থেকে ও আমাকে বলুক, আচ্ছা ফায়সাল তুমি বুঝোনা আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি! কিন্তু আমার ভাবনাগুলো ভাবনাতেই রয়ে গেলো। আর আস্তে আস্তে আমাদের সম্পর্কটা তে এক মরীচিকা ঠাই পেতে লাগলো। ওকে এখন ফোন দিলে কথা না বলে চুপ করে থাকে। আবার মাঝে মাঝে ফোন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেয়। কোচিং শেষে যখন ছাদে ওঠে ওঠে ওর জন্য অপেক্ষা করি মেয়েটা আমার সামনে একটু এসেই আবার চলে যায়। এমনকি মাঝে মধ্যে ওর কোনো দেখাই মিলেনা। এই জিনিসটার নামি কি অবহেলা!

প্রায় এক সাপ্তাহ হয়ে গেলো আনিকা এই কয়দিনে একটা বারের জন্য ব্যালকনিতে আসেনি। আমি আর টিকতে না পেড়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, আজ ওদের বাসায় যাবো। কোচিং শেষ করে সোজা ওদের বাসায় চলে গেলাম।

কলিং বেল চাপতেই একটা মধ্যে বয়স্ক মহিলা দরজা খুলে বলে উঠলো, কাকে চাই?
"আনিকা আছে?
"এইখানে কোনো আনিকা থাকেনা।
"কি বলেন, ও তো এই বাসায় আর এই ফ্ল্যাটেই থাকে। আমি ওর ফ্রেন্ড লাগি। ওকে বলেন, ফায়সাল নামের একজন ওর খোজে এসেছে।
"বল্লামতো এইখানে আনিকা নামের কেউ থাকেনা। তারপর আমি মোবাইলটা বের করে মহিলাটাকে আনিকার নাম্বার দেখিয়ে বল্লাম, দেখেন নাম্বারটা চিনেন নাকি?
মহিলাটা আমার দিকে একটু অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকিয়ে যেই কিছু বলতে যাবে তখনি আনিকা আমাদের সামনে এসে মহিলাটাকে বলে উঠলো,ভাবি উনাকে ভিতরে আসতে দেও। মহিলাটা আনিকার কথা শোনে আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিলো। রুমের ভিতরে ঢুকার পর দেখলাম আরো চারটা মেয়ে সোফায় বসে আছে। আর দুইটা ছেলেও ছিলো। মহিলাটা দরজাটা লাগিয়ে আনিকাকে বলে উঠলো, ওই এইটা কে?
"ভাবি এইটা আমার কাষ্টমার। ওর কথাটা শোনার পর আমি একদম থমকে উঠলাম। মহিলাটা আবার বলে উঠলো, এর আগেতো লাগে দেখি নাই। আর আইয়া যেমনে আমার লগে তর্ক শুরু করছে। মনে হয়নাতো এনে এর আগেও আইছে। এর আগে আইলে রুমের ব্যাল বাজায়া একটা ইশারা দিলেই বুঝতাম পুরান পার্টি। কিরে তুই জানোস না বাড়ির মানুষ বুঝতে পারলে কি হইবো?আর তুই শিখায়া দিবিনা। এনে কেমনে আইতে হয়?
"ভাবি আজকে সব শিখায়া দিবো। .

কথাটা বলেই মেয়েটা আমার হাত ধরে টেনে একটা রুমের ভিতর নিয়ে গেলো। রুমে ঢুকেই মেয়েটা দরজা আটকিয়ে দিয়ে চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি বুঝতে পারতেছিনা যে, এগুলা কি হচ্ছে। আর ওই মহিলার কথাটা শুনার পর আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। আর আনিকা আমাকে কাস্টমার কেন বল্লো! তার মানে আনিকা কি........ ছি! কি সব ভাবতেছি আমি। আমি আর সাত পাঁচ না ভেবে আনিকার কাছে যেয়ে ওর হাতটা আমার হাতে নিয়ে বলে উঠলাম, আমি কিছু বুঝতেছিনা। কি বল্লো এইসব ওই মহিলাটা। আনিকা আমার কথাটা শুনে একটু আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, এখনো বুঝতে পারোনি যে, আমি একটা পতিতা। ওর কথাটা শুনে ওর হাত জোড়া আমার হাত থেকে পড়ে গেলো। এইটা ও কি বল্লো? কোথাও তো লেখাও নেই যে, ও পতিতা। আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারতেছিনা। আমার এরকম নিশ্চুপ থাকা দেখে মেয়েটা বলে উঠলো, আমারি ভুল হয়েছে ওই ব্যালকনিতে যেয়ে দাঁড়িয়ে তোমার সাথে এতদিন এমনটা করা। কে জানতো আজ এমনটা হবে, তুমি আমার প্রতি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে! ওর কথাটা শুনে আমি ওর গাল দুটো স্পর্শ করে বলে উঠলাম, আমার না বিশ্বাস হচ্ছেনা! আনিকা আমার এসব একটুও বিশ্বাস হচ্ছেনা। তুমি দুষ্টামি করতেছো তাই না? আমার এরূপ কান্ড দেখে মেয়েটা চুপ করে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আমি আবার ওকে বলে উঠলাম, আমি সত্যি বলতাছি, এই যে তোমাকে ছুয়ে বলতেছি আমি আর কখনো পাগলামি করবোনা তোমার সাথে।

"তোমার ওই পাগলামি গুলোই মাঝে মাঝে খুব অনুভব করতাম। পরক্ষনে আমার মানতে হতো যে, আমার মতো একটা মেয়ের এমন পাগলামি অনুভব করা মানায় না। এই পাগলামি গুলোর মূল্য অনেক যার দায় আমি কখনো নিতে পারবোনা।
"কেন পারবেনা?
"আমি একটা পতিতা।
"আনিকা!
"তুমি এখান থেকে চলে যাও। আর এইখানে আসবেনা। আমিও এখান থেকে কিছুদিন পর চলে যাবো।
"কই চলে যাবা? আর এরকম নরকের মাঝে তুমি আসলাই বা কেনো?
"পড়া শোনার জন্য গ্রাম ছেড়ে ঢাকা এসেছিলাম। আর এইখানে আসার পর জানতে পারলাম আমার মায়ের পিত্ত থলিতে পাথর হইছে। পাথরটা নাকি অনেক আগে থেকেই হয়েছিলো। মাঝে মধ্যে খুব কাতরাতো ব্যাথায়। এক্সরে করার পর জানতে পারলাম পাথর হয়েছে। অপারেশনের এবং ওষুধ পাতি সব কিছুর জন্য প্রায় ৩৫০০০ টাকা লাগবে। এই কয়টা টাকা কোনো মতেই যোগাড় হচ্ছিলোনা। আত্মীয়-স্বজন যারা আমাদের আছে তাদেরো একি অবস্থা। কেউ একটুও সাহায্য করতে পারেনি। নিজেদের থাকার ভিটা টা ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। তাই এই ভাবির সাথে ৬ মাসের কন্টাক্টে এইখানে আসা। আর কিছুদিন পরেই কন্টাক্ট অনুযায়ী আমার ৬ মাস হয়ে যাবে। তারপর বাড়িতে চলে যাবো। ওর কথাটা শোনার পর আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারতেছিনা। মেয়েটার চোখ বেয়ে পানি পড়তেছে। এত সুন্দর একটা মেয়ে আল্লাহ এত নিখুঁত ভাবে একে তৈরি করেছে। ভাগ্যের কি পরিহাস! .

আমি ওর কাছে যেয়ে ওর চোখ দুটো মুছে দিতে লাগলাম। মেয়েটা ওর চোখ দুটো বন্ধ করে ঠোটে কামড় দিয়ে ফুপিয়ে কান্না করতে লাগলো। আলতো করে ওর চোখটাতে আমার হাতের আঙ্গুল দিয়ে কিছুক্ষন বুলিয়ে দিয়ে ওকে বলে উঠলাম, আজকেই তোমাকে এই নরক থেকে মুক্তি দিতেছি। আমার কথাটা শুনে মেয়েটা কিছুটা চমকিয়ে উঠে বলে উঠলো, কি বলতেছো এসব? ভাবি কখনো এমনটা হতে দিবে না। আমি নিজেই খুব চেষ্টা করেছি, এমন কি পাঁচবারের মতো পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কোনো কাজ হয়নি। "আমি উনার সামনে থেকে তোমাকে নিয়ে যাবো। তুমি শুধু চুপ করে থাকবে। "ফায়সা.....
"চুপ! আমি যা বলছি তাই হবে। কথাটা বলেই আমি দরজাটা খুলে ওই মহিলাটার সামনে যেয়ে বলে উঠলাম, আমি ওকে এখান থেকে নিয়ে যাবো। মহিলাটা আমার দিকে চোখগুলো বড় করে তাকিয়ে বল্লো, হুন বেশি উলটা পালটা করিছ না। পুলিশের লগে হাত রাইখাই এই জায়গায় ব্যবসা করি। একটা ফোন দিমু আইয়া তরে ধইরা লইয়া জাইবো। বড়জোর মানুষ জানতে পারলে আমারে এই বাসা ছাইড়া দিতে কইবো। কোনো সমস্যা নাই। আমি অন্য জায়গায় নতুন কইরা ব্যবস্থা কইরা নিমু। ওর টাইম হোক ওরে আমিই ছাইড়া দিমু। দেখতে তো লাগে তরে ভালো মানুষের বাচ্চা। নিজের ক্ষতি নিজে করিছনা। .

মহিলার কথাটা আমার গায়ে লাগলোনা। আমি নাছোড়বান্দা উনার সাথে আমার একের পর এক কথা বাড়তেই লাগলো। একটা সময় উনি রাজি হয়ে গেলো, ২০০০০ টাকা দিলে নাকি আনিকাকে উনি ছেড়ে দিবে। আমিও রাজি হয়ে গেলাম। তারপর উনার কাছ থেকে এক ঘন্টার সময় নিয়ে একটা তালা নিচের দোকান থেকে কিনে এনে আনিকাকে রুমে ঢুকিয়ে বল্লাম, তুমি রেডি হও আজকেই তুমি গ্রামে যাবে। কথাটা বলে আমি ওকে রুমে তালা লাগিয়ে টাকা আনার জন্য বাড়িতে গেলাম। .

এতগুলো টাকা মায়ের কাছে চাইলে দিতে চাইবেনা। তাই ঘরের সিন্দুক খুলে টাকাগুলো চুরি করলাম। যে করে হোক ওকে মুক্তি দিতেই হবে। তারপর টাকা গুলো নিয়ে সোজা সেইখানে চলে গেলাম। মহিলাকে টাকাগুলো দিয়ে আনিকাকে রুম থেকে বের করে এই পথ থেকে মুক্তি দিলাম। .

দুইজন বাহিরে বের হয়ে কমলাপুর যাওয়ার জন্য রিকশায় উঠলাম। চৈত্র মাস, ওয়েদার পরিবর্তন হতে বেশি সময় নেয়না। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে যাচ্ছে আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। রিকশাওয়ালা একটা পলিথিন দিলো যেনো বৃষ্টিতে না ভিজি। পলিথিনটা মেলে দুইজন একটু ঘেসেই বসলাম। মেয়েটার চোখ দুটো বেয়ে পানি পড়তেছে। ওর হাতটা আমার এক হাত দিয়ে ধরে বল্লাম, দিনাজপুর রেলস্টেশন থেকে কতক্ষণ লাগবে বাসায় যেয়ে পৌছাতে? "বেশিনা আধা ঘন্টা।
"এখনো এরকম করে কাঁদবে? কিছু হয়নি! ভাবো যা হয়ে গেছে সব স্বপ্ন ছিলো। আমার কথাটা শোনে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। .

কমলাপুর আসার পর রিকশা থেকে নেমে টিকেট কাউন্টারের সামনে যেয়ে জানতে পারলাম দিনাজপুরের ট্রেন ১১.০০ টায় আসবে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৯.৩০ বেজে গেছে। তারপর কেবিন ওয়ালা একটা কামড়ার টিকেট নিয়ে দুইজন একটা বেঞ্চে যেয়ে বসলাম। স্টেশনের লাইটের আলোতে দেখা যাচ্ছিলো মেয়েটার দুই গালে চোখ থেকে গড়িয়ে পরা পানির ছাপ গুলো। বৃষ্টিটাও খুব জোরসে নেমে গেছে। এই সময়ে রঙ চা আর মিছ করতে নেই। তাই আনিকাকে রেখেই স্টেশনের একটা দোকান থেকে দুই কাপ রঙ চা আর একটা পানির বোতল নিয়ে ওর সামনে যেয়ে চায়ের কাপ দুইটা রেখে পানির বোতলটা মেয়েটার হাতে দিয়ে বললাম, যাও মুখটা ধুয়ে নেও। .

মেয়েটা ওর মুখটা ধুয়ে ওরনা দিয়ে মুখটা মুছে বেঞ্চে এসে বসার পর চায়ের কাপটা ওর হাতে দিলাম। চায়ের কাপটা ওর হাতে নিয়ে মেয়েটা আমাকে বলে উঠলো, তুমি এতগুলা টাকা কোথায় পাইছো? ওর কথাটা শুনে আমি মিথ্যা বলে দিলাম যে, টাকাটা আমার জমানো ছিলো। মেয়েটা চা টুকু শেষ করে বলে উঠলো, আমার ভিতরে নতুন করে পাওয়ার মতো কিছুই নেই। এত কিছু জানার পরেও কেন আমার জন্য এমন করলা?
"নিজের কাছে প্রশ্ন করো পেয়ে যাবে।
"তোমার মুখে বলতে ঘৃণা লাগছে তাই না? তুমি চাইলে আমাকে কিছুদিন তোমার কাছে রেখে দিতে পারো।
"ছি! আনিকা এসব কি বলতেছো তুমি। আমি তোমাকে এমন চোখে দেখি নাই। ভালবাসছি! খুব বেশিই। আর শোনো মন জিনিসটা যে কত মূল্যবান সেইটা আমরা কিন্তু জানি। এইটা সবাইকে দেওয়া যায়না যাদের উপর অধিক বিশ্বাস বিরাজ করে তাদেরই শুধু দেওয়া যায়। নতুন কিছু পাওয়ার মতো শুধু ওই দামি মনটাই আছে। .

আমার কথা শুনে আনিকার চোখ দুটি আবার পানিতে ভরে গেলো। মেয়েটা যেনো আমাকে বাধা দিতে চাচ্ছিলো। আমি সেই বাধাটা দেওয়া থেকে ওকে বিরত রেখে ওর হাতটা ধরে বল্লাম, এক ঘন্টা আগে কি হইছে আমি সব ভুলে গেছি। তোমার অতীতে কিছু হয়নি। এতদিন খারাপ একটা স্বপ্ন দেখছো এই ভেবে নতুন পথ চলা আরম্ভ করো। .

মেয়েটা এবার আমার কথাটা শুনে কেদেই উঠলো। ওর হাতটা শক্ত করে ধরে আমি আবার বলে উঠলাম, দেখছো আবার কাঁদতেছে! বলছিতো কিছু হয় নাই। একদম চুপ। বাড়িতে যেয়ে ওই জায়গার কোনো কলেজ থেকে পড়াশোনাটা করতে থাকো। আর তিনটা বছর অপেক্ষা করো। কি বলছি মাথায় ঢুকছে? আমার কথাটা শেষ হওয়ার পর ও একটু হেসে আমাকে ইশারায় হ্যা কথাটা বুঝালো। পরক্ষনে খেয়াল করলাম ট্রেন এসে পড়েছে। .

তারপর ওকে নিয়ে সোজা ওর কেবিনে বসিয়ে দিয়ে বল্লাম, রাতে দরজা খুলবানা। আর আমি বাসায় যেয়ে ফোন দিয়ে কথা বলবো। ঠিক আছে?
"হুম।
"আমি তাহলে বাহিরে যেয়ে দাড়াই দরজাটা ভালো মতো আটকিয়ে দেও। কথাটা বলে যেই বাহিরে বের হতে যাবো তখনি মেয়েটা আমাকে বলে উঠলো, ক্যান ইউ হাগ মি? আমি পিছনে ঘুরে দেখলাম মেয়েটা দাড়িয়ে আছে। আমি একটু হেসে বলে উঠলাম, অনুমতি লাগে নাকি আবার আস্তে করে হাতটা ধরে টান দিয়ে বুকে এসে পড়বা। কথাটা শোনার পর মেয়েটা একটা হাসি দিয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ থাকার পর আমার চোখের দিকে একটু তাকিয়ে আমার শুকনো ঠোটে একটা চুমু খেয়ে ঠোট দুটো ভিজিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,আমার ঠোটটা কিন্তু এই প্রথম কাউকে স্পর্শ করলো। যাও নিচে যেয়ে দাড়াও বাশি ফু দিচ্ছে এখনি ট্রেন ছেড়ে দিবে এখন। আমি আর কিছুনা বলে বাহিরে বের হয়ে গেলাম। তারপর ওর কেবিনের জানলার সামনে এসে ওর হাতটা ধরে আবারো বল্লাম, কিছুই হয়নি বুঝছো?
"হুম।
কথাটা শেষ হতেই ট্রেনটা ছেড়ে দিলো। আস্তে আস্তে ট্রেনটা অনেক দূর চলে গেলো। মোবাইলটা হঠাৎ বেজে উঠলো বের করে দেখলাম আনিকার ফোন। ফোনটা রিসিভ করার পর মেয়েটা বলে উঠলো, যাও এখন বাসায় যাও। বাসায় পৌছিয়ে ফোন দিবা।
"আচ্ছা ঠিক আছে। কথাটা শেষে ফোনটা রেখে হাটা শুরু করলাম। আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, যে করে হোক ওকে আমার চাই। ওর অতিত বলতে কিছু নেই। ওকে সৃষ্টিকর্তা আজকে নতুন করে তৈরি করেছে শুধু আমার জন্য। তার পর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম বাড়ি ফিরতেই আম্মুর সাথে কথা বিশ হাজার টাকা উধাও আম্মুকে আর লুকাবো না সবকিছু খুলেই বললাম কিন্তু যখন বললাম আমি মেয়েটিকে বিয়ে করবো ঠিক তখনই পরিবারের সবারই আপত্তি চলে আসলো তাদের কাছেও সেই একই কথা পতিতাকে কখনো বিয়ে করে নাকি বন্ধুদের সাথে বস কিছু শেয়ার করলাম ওরাও নানা ধরনের বাজে কথা বলতে লাগলো তখনোই বুঝলাম ভালোবাসাটা আসলেই অন্যরকম এখানে শরীরের প্রতি কখনো দুর্লতার প্রকাশ ঘটায় না।এভাবেই কয়েকদিন চলতে থাকে চার পাঁচ দিন হয়ে গেছে মেয়েটির সাথে কোন কথা হয়নি আজ কলদিলাম নাম্বারটা বন্ধ বলছে মনের ভিতর থেকে কেমন যেন ভয়ের সৃষ্টি হলো মেয়েটিকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে আসলাম কিন্তু মেয়েটি কার কাছে যাবে মাত্র ৩৫০০০ হাজার টাকার জন্য যে মেয়েটি পতিতা হতে পারে আসলে তার জীবন টা কত আলাদা এসব ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্ত নিলাম একাই চলে যাবো মেয়েটির চোট গ্রামে কমলাপুর রেলস্টেশনে উঠে বসলাম অনিকার কাছ থেকে জেনে নেওয়া হালকা ঠিকানা ধরেই এগোতে হবে ট্রেন জার্নি অনেকদিন করিনা পকেটে টাকাও তেমন নেই বড়জোর দশ-বার হাজার টাকা হবে। এ স্বল্প টাকা নিয়েই নানা চিন্তা ভাবনা করতে করতেই ট্রেন টা ছেড়ে দিল অনিকা বলেছিল ট্রেনের একদম শেষ স্টেশনে নামতে তাই একের পর এক স্টেশনে সবাই নেমে যাচ্ছে কিন্তু আমি আর নামছি না ট্রেন টা চলছেই অবশেষে পেলাম অনেক কষ্ট করে ঠিকানা ধরে এগোতে এগোতে ওদের গ্রামে এসে পৌঁছেছি হটাৎ এক জায়গায় খেয়াল করতে দেখলাম অনেক মানুষের সমাগম কিছু একটা হয়েছে হয়তো। ,,"

এগিয়ে গেলাম যা দেখলাম দেখার জন্য অপ্রস্তুত ছিলাম অনিকার মা মারা গেছে যার পিত্তথলি পাথরের চিকিৎসার জন্যই অনিকার নামের বরে আজ পতিতা বসে। অনিকার পাশে গিয়ে বসলাম উঠানে মৃত দেহটা রাখা হয়েছে হটাৎ বৃষ্টি নেমে এল মানুষের হৈচৈ পরে গেছে অনিকার চোখদিয়ে পানি বেরচ্ছে কিনা বুঝতে পারছি না বৃষ্টির পানির সাথে সব মিশে যাচ্ছে কাত হয়ে পরে গেল হটাৎ অনিকা পরবেই বা না কেন মেয়েটি আর কত কষ্ট সহ্য করবে আমি কতটা অকৃতজ্ঞ মেয়েটিকে একা একা ছেরে দিয়েছিলাম আমার আসা উচিৎ ছিল ওর সাথে অনিকাকে টেনে তুললাম। অনেক শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম কি আর করবো মেয়েটি দুচোখে ছল ছল করে তাকিয়ে আছে আমার দিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট হয়ে গেলে আমার শরীরটা বৃষ্টিতে ভিজে জবজব করছে অনিকারো তাই এরকম করলে ও আরো অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে অন্যদিকে ওর মায়ের মৃত দেহটা দাফন করতে স্থানীয় লোকজন নিয়ে গেছে অনিকাকে অনেক কিছু বলেই যাচ্ছি কিন্তু ও শুধুই ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে হয়তো কিছু বলার ভাষা পাচ্ছে না জানতে পারলাম পরো গ্রাম জেনে গেছে ও শহরে গিয়ে কি করতো ও একটা পতিতা এ কারনে গ্রামের সবাই নাকি ওর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকায় আমাকে ভাবছে আমি নাকি ওর কাস্টমার এসব নোংরা কথা শুনতে শুনতে কানটা কেমন যেন করছে অনেক হুজুর পীর রা মেয়েটিকে ভীষন মারতে শুরু করলো তাদের দাবী ওর এসব নোংরা কাজের জন্যই ওর মা মারা গিয়েছে আমার কথা শুনছে না কেউই বরং আমাকেও হেওয়ো করা হলো। মাথাটা একদম ঠান্ডা করে নিলাম অনিকাকে এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে বলে মনোস্থির করে ওকে নিয়ে সন্ধ্যার ট্রেনেই রওনা হলাম কিন্তু কোথায় যাবো জানি না অনিকা একটা কথাও বলেনি এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে কেমন যেন অবাক হয়ে ,,

হটাৎ নিরবতা ভাংলো অনিকার ~আচ্ছা তুমি আমার জন্য এতো কেন করছো ফয়সাল। আমার কাছে তো তোমাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। থাকার মতো আছে এক নষ্ট শরীর যাতে হাজারও মাছির আমদানি
~~ছি অনিকা এরকম বলতে হয় না আমি শুধু তোমার নিষ্পাপ মনটা চাই আর কিছুই নয়।
~এ মন নিয়ে কি করবা এই মনের কোন চাহিদা আকাঙ্খা কিছুই নেই শুধুই আছে ঘোলাটে অন্ধকার।
~~আমি সেই অন্ধকারেই তো আলো ফুটাতে চাই এরকম কথা বলতে বলতেই অনিকাকে একটু নরমাল করতে পেরেছি। সারাদিনে কিছুই খাওয়া হয়নি। অনিকা এ কয়েকদিনে খেয়েছে কিনা তাও জানি না স্টেশনের পাশ থেকে কিছু কমদামি খাবার নিয়ে আসলাম অনিকার মুখ দিয়ে খাবার নামবে না জানি নিজে হাতে খাইয়ে দিচ্ছি মেয়েটু প্রচুর দুর্বল হয়ে গেছে গা জ্বরে পুরে যাচ্ছে।ট্রেন চলছে কিন্তু অনিকাকে নিয়ে কোথায় যাবো পরিবারের কাছে কি জবাব দিব বাসায় নিয়ে যাবো নাকি না। অনেক চিন্তা ভাবনা করে ভেবে নিয়েছি ট্রেন থেকে নেমেই অনিকাকে বিয়ে করবো তারপরই বাসায় নিয়ে যাবো কোন কথা বলবো না। আম্মুর সাথে আমার সিদ্ধান্তই এখানে অটুট মানুষ যা বলে বলুক।বাসায় নিয়ে আসলাম ঘরের চৌকাট টা পার হতেই আম্মুর রাগান্বিত চোখ দেখে অনেক ভয় লাগছিল আম্মু প্রথমেই জিজ্ঞাসা করো বসলো সারাদিন কোথায় ছিলি আর এই মেয়েটি কে অনিকা না? তুই ওকে নিয়ে এসেসিস কেন। মানুষের সামনে আমাদেরর সম্মানটা এভাবে নষ্ট করলি সরাসরি বলে দিলাম ও আমার বিবাহিত স্ত্রী ওর ভরন পোষনের দায়িত্ব তোমরা না নিলে এটা আমার অনিকাকে রুমে নিয়ে গেলাম। আসার সময় ওর জন্য কিছু ড্রেস কিনেছিলাম পরে নিতে বললাম। রাতের খাবার বাইরে থেকে কিনে আনলাম কয়েকদিন এমনই চলতে লাগলো কিন্তু তারপরও সব ঠিক নাই আমি বাসায় না থাকলেই অনিকার সাথে বাড়ির সকলের অত্যাচার শুরু হয়ে যায়। যেটা শুনে মাথায় কোন কাজ করছে না কি করবো আসলে এখন অনিকাকে আপন করে নেওয়ার মতো আমি ছাড়া কেউ নাই। তুচ্ছ ব্যাপার গুলো নিয়ে বাড়ির কাজের লোক পর্যন্ত অনিকার গায়ে হাত তোলে আসলে আমি তো বেকার আমার কিছুই করার নাই যে। তবুও অনিকাকে নিয়ে বাসা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কিন্তু আম্মু যেতে দিতে চায়নি তার পরও বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসলাম অনিকা আমার হাতটা শক্ত করেই ধরে ছিল হটাৎ ছেড়ে দিয়ে বললো ফয়সাল আমি আমার আগের অন্ধকার জীবনেই চলে যাই দেখছো আমার জন্য আজ তুমি এতো সুন্ধর একটা ফ্যামিলি ছেড়ে দিলা। আমাদের মতো গরীব মেয়েদের আর পাঁচটা মেয়ের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপনেে স্বপ্ন দেখাটা ভুল, কথা গুলো এতো আবেগ দিয়ে বলছিলো যা ওর প্রতি আমার মাত্রাত্রিক ভালোবাসা সৃষ্টি করার জন্য যতেষ্ট ছিল। এখন আমি ওর হাতটা শক্ত করে ধরলাম আর প্রতিজ্ঞা করে নিলাম আমার শেষ নিশ্বাস থাকা পর্যন্ত এভাবেই হাতটা ধরে থাকবো শুধু প্রতিদিন ব্যালকুনিতে সেজেগুজে দারায় থাকবা প্রতিদিন পিছন থেকে এসে জরায় ধরবো এবাভেই কিছু সময়ের জন্য খুনশুটিতে মেতে উঠি জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে।